ব্যুরো নিউজ, ২৩শে জানুয়ারী ২০২৬ : ২০২১ সাল থেকে ভারত সরকার ২৩শে জানুয়ারি দিনটিকে ‘পরাক্রম দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়। ‘পরাক্রম’ শব্দের অর্থ হলো বীরত্ব বা বিক্রম। ব্রিটিশ রাজের শৃঙ্খল মোচনে নেতাজির যে নির্ভীক মানসিকতা ছিল, তাকে সম্মান জানাতেই এই নামকরণ। বিশেষ করে যুবসমাজের কাছে তাঁর আদর্শ, শৃঙ্খলা এবং দেশপ্রেমের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এই দিনটির মূল লক্ষ্য। ২০২৬ সালের এই দিনটি শুক্রবার হওয়ায় সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উৎসবের মেজাজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বর্ণময় জীবন ও সংগ্রামের ইতিহাস
১৮৯৭ সালের ২৩শে জানুয়ারি ওড়িশার কটকে জানকীনাথ বসু ও প্রভাবতী দেবীর ঘরে জন্ম নেন সুভাষচন্দ্র। ছাত্র হিসেবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। ইংল্যান্ডে গিয়ে আইসিএস (ICS) পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য পেলেও, ব্রিটিশদের অধীনে কাজ করতে অস্বীকার করেন তিনি। দেশমাতার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে সেই সম্মানজনক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ভারতে ফিরে আসেন।
রাজনীতির আঙিনায় তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হন এবং ১৯৩৮ (হরিপুরা) ও ১৯৩৯ (ত্রিপুরী) সালে কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। তবে মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতির সঙ্গে তাঁর আদর্শগত মতপার্থক্য তৈরি হওয়ায় তিনি কংগ্রেস ত্যাগ করে ‘ফরোয়ার্ড ব্লক’ গঠন করেন।
Maa Saraswati Puja : ব্রহ্মমুহূর্তের আবাহন: মন্ত্রের ছন্দে বাগদেবীর আত্মপ্রকাশ।
আজাদ হিন্দ ফৌজ ও ‘দিল্লি চলো’র ডাক
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশদের নজরবন্দি এড়িয়ে ১৯৪১ সালে মহানায়ক সুভাষচন্দ্র বসু ভারত ত্যাগ করেন। বিদেশের মাটিতে ভারতের স্বাধীনতার জন্য জনমত গড়ে তোলেন এবং সিঙ্গাপুরে ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’ (INA)-এর নেতৃত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯৪৩ সালে তিনি ‘আজাদ হিন্দ সরকার’ গঠন করেন। তাঁর বলিষ্ঠ স্লোগান— “তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব” —সে সময় ভারতীয়দের মনে স্বাধীনতার জোয়ার এনেছিল। যদিও তাঁর মৃত্যু আজও এক রহস্যে মোড়া, তবুও তাঁর লড়াই ও আদর্শ ভারতবাসীর হৃদয়ে অমর হয়ে আছে।
২০২৬ সালের উদযাপন চিত্র
আজকের দিনটি উপলক্ষে কলকাতা, দিল্লি এবং কটক সহ দেশের বিভিন্ন শহরে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
কলকাতায়: নেতাজির বাসভবন ‘এলগিন রোড’-এ ভোর থেকেই মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। রেড রোডে বিশেষ কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়েছে।
কটকে: তাঁর জন্মভিটেয় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে: স্কুল ও কলেজগুলোতে নেতাজির জীবনীর ওপর বসে আঁকো প্রতিযোগিতা, বিতর্ক সভা এবং দেশাত্মবোধক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালন করা হচ্ছে।
নেতাজির কিছু কালজয়ী উক্তি
“তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব!”
“স্বাধীনতা কেউ দেয় না, স্বাধীনতা অর্জন করে নিতে হয়।”
“আলোচনা করে ইতিহাসে কোনোদিন কোনো বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি।”
“একজন ব্যক্তি কোনো একটি আদর্শের জন্য মৃত্যুবরণ করতে পারে, কিন্তু সেই আদর্শ তাঁর মৃত্যুর পর হাজারো মানুষের হৃদয়ে পুনর্জন্ম নেয়।”
উপসংহার
পরাক্রম দিবস কেবল একটি দিন নয়, এটি নেতাজির অদম্য জেদ এবং ভারতাত্মার জাগরণের প্রতীক। ২০২৬ সালেও তাঁর দেখানো শৃঙ্খলমুক্ত, আত্মনির্ভর ও সাহসী ভারতের স্বপ্ন আজও আমাদের পথপ্রদর্শক।




















