ব্যুরো নিউজ, ২০শে জানুয়ারী ২০২৬ : দীর্ঘ টালবাহানা ও কেন্দ্রীয় বিশেষজ্ঞ কমিটির একাধিক আপত্তি কাটিয়ে অবশেষে দিল্লির কর্তব্য পথে (Kartavya Path) এ বছরের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে স্থান পেল পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলো। আগামী ২৬ জানুয়ারি ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ভারতের স্বাধীনতার সংগ্রামে বাংলার অবদানকে তুলে ধরবে এই ট্যাবলো। এবারের থিম— “বন্দে মাতরম ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম”।
ট্যাবলো নিয়ে দীর্ঘ টানাপড়েন ও ‘পাল্টা’ যুক্তি
রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বিশেষজ্ঞ কমিটির অন্তত পাঁচটি বৈঠকের পর এই ছাড়পত্র মিলেছে। সূত্রের খবর, কমিটির পক্ষ থেকে নকশা ও বিষয়বস্তু নিয়ে বারবার প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গভবনের আধিকারিকরা পাল্ট প্রশ্ন তোলেন— যদি অসম, ওড়িশা বা রাজস্থানের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির ট্যাবলোর বিষয়ের সঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রামের সরাসরি যোগ না থাকা সত্ত্বেও ছাড়পত্র পেতে পারে, তবে বাংলার ক্ষেত্রে কেন এত কড়াকড়ি? এই জোরালো যুক্তির কাছে শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। উল্লেখ্য, ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তিকে সম্মান জানাতেই এই বিশেষ থিমটি বেছে নেওয়া হয়েছে।
WB ECI SIR : ব্যাহত রেল ও জাতীয় সড়ক: এসআইআর শুনানির আবহে জ্বলছে মুর্শিদাবাদ, কাঠগড়ায় প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা
প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রস্তুতি ও নতুন নিয়ম
এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসে জন-অংশগ্রহণ বা ‘জন ভাগীদারি’ বাড়াতে কেন্দ্রীয় সরকার একগুচ্ছ নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে:
১০ হাজার বিশেষ অতিথি: উদ্ভাবক, গবেষক, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য এবং সরকারি প্রকল্পের সফল রূপকারদের সস্ত্রীক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাঁরা কর্তব্য পথের বিশেষ আসনে বসে কুচকাওয়াজ দেখবেন এবং মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন।
নদীর নামে আসন বিন্যাস: প্রথাগত ভিআইপি কালচার দূর করতে এবার বসার জায়গা বা এনক্লোজারগুলোর নাম রাখা হয়েছে ভারতের বিভিন্ন নদীর নামে। উত্তর দিকে রয়েছে যমুনা, তিস্তা, কাবেরী বা কৃষ্ণের মতো নদীর নামাঙ্কিত আসন এবং দক্ষিণ দিকে গঙ্গা, সিন্ধু বা ব্রহ্মপুত্রের নাম।
প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা: গোয়েন্দা সূত্রে নাশকতার আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে দিল্লি পুলিশ পুরো এলাকায় উন্নত প্রযুক্তির নজরদারি ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। আমন্ত্রিতদের নির্দিষ্ট রুট ম্যাপ মেনে চলার জন্য নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
WB ECI SIR : ফেব্রুয়ারিতেই চূড়ান্ত তালিকা? রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের আশঙ্কা উসকে দিলেন অভিষেক
রাজনীতি বনাম রাষ্ট্রবাদ : পর্দার আড়ালের সমীকরণ
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এবারের ট্যাবলোর অনুমোদন ঘিরে তলে তলে এক সংঘাত চলছিল। অভিযোগ উঠেছিল, রাজ্যের ট্যাবলোতে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কোনো প্রচারমূলক বিজ্ঞাপন বা লোগো থাকে, তবেই বাধা দেওয়া হবে। তবে শেষ পর্যন্ত ‘বন্দে মাতরম’ ও জাতীয়তাবাদের আবেগকে প্রাধান্য দিয়ে বিতর্ক এড়িয়ে গেছে কেন্দ্র। বাংলার ট্যাবলোতে বঙ্কিমচন্দ্র ছাড়াও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বিনয়-বাদল-দীনেশের মতো বিপ্লবীদের স্মৃতি ফুটে উঠবে বলে জানা গেছে।
দর্শকদের জন্য বিশেষ তথ্য
প্রজাতন্ত্র দিবসের দর্শকদের সুবিধার্থে এবার কিউআর কোড ভিত্তিক পার্কিং এবং এনক্লোজার অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেট্রো স্টেশনে (উদ্যোগ ভবন বা কেন্দ্রীয় সচিবালয়) নামার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশেষ অতিথিদের জন্য ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়াল ও পিএম সংগ্রহালয় পরিদর্শনের বিশেষ ব্যবস্থাও রেখেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।




















