us seize russian oil tanker

ব্যুরো নিউজ, ৭ই জানুয়ারী ২০২৬ : উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ার নৌবাহিনী এবং সাবমেরিন পাহারা থাকা সত্ত্বেও নাটকীয় অভিযানে ‘মেরিনেরা’ (পূর্বনাম বেলা ১) নামক একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই রুদ্ধশ্বাস ধাওয়ার অবসান ঘটল আইসল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন এবং মস্কোর মধ্যে চরম কূটনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

মধ্য সমুদ্রে রুদ্ধশ্বাস ধাওয়া ও হাতাহাতি

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের (WSJ) রিপোর্ট অনুযায়ী, এই জাহাজটি ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে ভেনেজুয়েলার কাছে মার্কিন নৌ-অবরোধ এড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল। ডিসেম্বরে মার্কিন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো প্রথমবার জাহাজে ওঠার চেষ্টা করলে ক্রু মেম্বাররা তাদের সাথে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত জাহাজটি আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরে চলে যায়। যদিও জাহাজটি বর্তমানে খালি, তবুও আমেরিকা এটিকে রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া-বহরের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা অবৈধভাবে তেল পাচারে ব্যবহৃত হয়।

USA seize Russian oil tanker : আটলান্টিকে রণক্ষেত্র: মাঝসমুদ্রে রুশ পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার হাতাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

নাম বদল ও রাশিয়ার ‘সুরক্ষা কবজ’

ধাওয়ার মুখে থাকা অবস্থাতেই জাহাজটির নাম ‘বেলা ১’ থেকে বদলে ‘মেরিনেরা’ রাখা হয় এবং ২৪ ডিসেম্বর এটি রাশিয়ার পতাকায় নিবন্ধিত হয়। রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন মেনেই এই নিবন্ধন করা হয়েছে। এমনকি জাহাজের গায়ে বড় করে রাশিয়ার জাতীয় পতাকা এঁকে দেওয়া হয়েছিল যাতে মার্কিন বাহিনী আক্রমণ করতে দ্বিধা বোধ করে। এছাড়া মস্কো জাহাজটিকে সুরক্ষা দিতে একটি সাবমেরিনসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছিল।

ইউএস সাউদার্ন কমান্ডের অবস্থান

মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (SOUTHCOM) সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় জানিয়েছে যে, তারা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং নিষেধাজ্ঞার পরিপন্থী কাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সর্বদা প্রস্তুত। ইউএস কোস্ট গার্ডের জাহাজ ‘মুনরো’ (Munro) টানা দুই সপ্তাহ ধরে জাহাজটিকে অনুসরণ করার পর জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

রাশিয়ার তীব্র নিন্দা ও ‘জলদস্যুতা’র অভিযোগ

মস্কো এই ঘটনাকে ‘সরাসরি জলদস্যুতা’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি নিবন্ধিত জাহাজের ওপর বলপ্রয়োগ করার কোনো আইনি অধিকার আমেরিকার নেই। রাশিয়ার মতে, ১৯০২ সালের রাষ্ট্রপুঞ্জের সমুদ্র আইন অনুযায়ী ‘ফ্রিডম অফ ন্যাভিগেশন’ বা অবাধ নৌচলাচলের অধিকার লঙ্ঘন করেছে মার্কিন বাহিনী। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, জাহাজটি একটি ‘স্টেটলেস’ বা রাষ্ট্রহীন জাহাজ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল কারণ এটি ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে নিবন্ধন পরিবর্তন করেছিল।

পরবর্তী পদক্ষেপ

বর্তমানে জাহাজটিকে মার্কিন কোস্ট গার্ডের পাহারায় আমেরিকার উপকূলের দিকে নিয়ে আসা হচ্ছে। ক্রু সদস্যদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে মার্কিন আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। এই ঘটনাটি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সাম্প্রতিক গ্রেফতারির পর দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

Article Bottom Widget

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর