ব্যুরো নিউজ, ২৮শে নভেম্বর ২০২৫ : আলিপুরদুয়ার বিধানসভা এলাকার একটি বুথে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় এসআইআর (SIR) ফর্ম বেআইনিভাবে আটকে রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আলিপুরদুয়ার বিধানসভার ১২/১৩২ নম্বর বুথের সিপিআইএম (CPIM)-এর বিএলএ-২ (বুথ লেভেল এজেন্ট) প্রদীপ মজুমদারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ।
ঠিক কী অভিযোগ
এসআইআর ফর্ম পূরণ করে জমা দেওয়ার সময়সীমা প্রায় শেষের দিকে। কিন্তু বুথের ভোটাররা ফর্ম তুলে নিলেও তা জমা দিচ্ছিলেন না। এই বিষয়ে খোঁজ করতে গিয়ে জানা যায়, বুথের বেশিরভাগ ভোটারের পূরণ করা এসআইআর ফর্ম প্রদীপ মজুমদার তাঁদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে নিজের বাড়িতে আলমারিতে তালাবন্ধ করে রেখেছেন। ফর্ম জমা করার নামেই তিনি এই বেআইনি কাজ করেছেন বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই আলিপুরদুয়ারে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ফর্ম হাতে না পাওয়ায় ওই বুথের বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার) সীমা সরকার তাঁর কাজ শেষ করতে পারছেন না। তিনি দ্রুত ফর্মগুলি জমা দেওয়ার আবেদন জানিয়ে এলাকায় মাইকিং করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও জানিয়েছেন। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে ব্লক নির্বাচনী আধিকারিক দ্রুত একজন মহিলা সঙ্ঘের সদস্যকে সহকারী হিসেবে ওই এলাকায় পাঠিয়েছেন।
অভিযুক্তের দাবি
তবে অভিযুক্ত বিএলএ প্রদীপ মজুমদার দাবি করেছেন যে, এলাকার মানুষদের অনুরোধ মেনেই তিনি ফর্মগুলি জমা রেখেছেন এবং এর মধ্যে কিছু ফর্ম তিনি জমাও করেছেন। এই ঘটনা প্রমাণ করল বামপন্থী কর্মীদের মধ্যে নিজের মতামত এবং কর্মকে এলাকাবাসির ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রথা এখনও কার্যকর ।
ভোটার তালিকা থেকে বাদ ২৬ লক্ষ ভোটারের নাম
অন্যদিকে, রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ জোরকদমে চলছে। খসড়া তালিকা প্রকাশের এখনও কয়েক দিন বাকি থাকলেও, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই হিসেবনিকেশ শুরু করে দিয়েছে।
বিএলও-দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে প্রায় ২৬ লক্ষ ভোটারের নাম।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত প্রায় ১০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছিল, মঙ্গলবার সেই সংখ্যাটা বেড়ে প্রায় ১৪ লক্ষ হয় ।
সূত্র মারফত খবর, শুক্রবারে এ পর্যন্ত রাজ্যে ২৫ লক্ষ ৯২ হাজার নাম বাদ পড়েছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রায় প্রতিদিনই নাম বাদ দেওয়ার খবর আসছে। বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলি করে যে তথ্য পাচ্ছেন, তার ভিত্তিতেই এই হিসেব তৈরি হয়েছে। সব এনুমারেশন ফর্ম জমা পড়লে চূড়ান্ত হিসেব জানা যাবে।



















