ব্যুরো নিউজ, ২৭শে নভেম্বর ২০২৫ : নির্বাচন কমিশনের (ECI) আধিকারিক ও কর্মীদের নিরাপত্তা এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ ভার্মার কাছে কড়া চিঠি পাঠাল ভারতের নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তরের সামনে বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) বিক্ষোভের জেরে সেখানে ‘গুরুতর নিরাপত্তা লঙ্ঘন’ (Serious Security Breach) হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে এই চিঠিতে।
চিঠিতে ইসিআই সচিব সুজিত কুমার মিশ্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সিইও অফিসের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি যথেষ্ট নয়। এর ফলে প্রধান নির্বাচনী আধিকারিক, অতিরিক্ত প্রধান নির্বাচনী আধিকারিক সহ অন্যান্য আধিকারিক ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
আধিকারিকদের জন্য বর্ধিত নিরাপত্তা এবং ইসিআই-এর নির্দেশ
ইসিআই এই নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছে এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে তার আধিকারিক ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমস্ত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে। কমিশনের মূল নির্দেশগুলি নিম্নরূপ:
বর্ধিত নিরাপত্তা: সিইও-এর দপ্তর, আধিকারিক ও কর্মীদের বাসস্থান এবং তাঁদের বাড়ি থেকে অফিসে যাতায়াতের সময় যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
সংবেদনশীলতা বিবেচনা: আগামী বছর রাজ্যে নির্বাচন এবং চলমান ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধনী’ (SIR) কার্যক্রমের সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে যথাযথ নিরাপত্তা শ্রেণিবিন্যাস (Security Classification) করতে হবে।
ভবিষ্যতের সতর্কতা: ভবিষ্যতে যাতে আর কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে।
রিপোর্ট তলব: এই চিঠি পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিশনের কাছে ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ (ATR) পাঠাতে হবে।
রাজনৈতিক চাপান-উতোর ও রাজ্যপালের হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি
‘অতিরিক্ত কাজের চাপ’-এর অভিযোগে বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যরা সোমবার দুপুর থেকে সিইও অফিসের বাইরে ধর্না শুরু করেন। সোমবার রাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় যখন বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান এবং সিইও-এর কক্ষ ঘেরাও করেন। মঙ্গলবার সিইও মনোজ আগরওয়ালের সাথে চারজন বিএলও ও ছয়জন শিক্ষক/সরকারি কর্মচারী সহ ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠকের পর বিক্ষোভ তুলে নেওয়া হয়।
এদিকে, এই ঘটনার রাজনৈতিক দিক নিয়েও বিতর্ক তুঙ্গে।
বিজেপি-এর অভিযোগ: মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিজেপি অভিযোগ করে যে এই বিক্ষোভ আসলে “গণতন্ত্রকে দুর্বল করতে এবং ইসিআই-কে ভয় দেখাতে তৃণমূল কংগ্রেসের সাজানো নাটক”। সোমবার রাতে বিজেপি কাউন্সিলর ও নেতা সজল ঘোষের নেতৃত্বে একদল বিজেপি কর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় এবং চলমান বিএলও বিক্ষোভে সাময়িক বিভেদ সৃষ্টি হয়। এই সময় ঘেরাও হওয়া নির্বাচনী আধিকারিকদের উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ: বিজেপি কর্মীরা অভিযোগ করেছেন যে একটি উচ্চ-নিরাপত্তা অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে শিক্ষক বা মহিলা নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিবাদে কড়া পদক্ষেপ নিলেও বিএলও বিক্ষোভে শৈথিল্য দেখানোর অভিযোগও উঠেছে।
রাজ্যপালের মন্তব্য: বুধবার সকালে রাজ্যের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এই বিক্ষোভ নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “এগুলো প্রশাসনের দেখাশোনা করার বিষয়। যদি তাদের তরফে কোনো ব্যর্থতা থাকে, তবে আমি অবশ্যই হস্তক্ষেপ করব।”
ইসিআই-এর প্রতিনিধিদল আসছে রাজ্যে
রাজ্যের চলমান এসআইআর কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা এবং মাঠের বাস্তবতা খতিয়ে দেখতে আগামীকাল, অর্থাৎ শুক্রবার, নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের একটি দল রাজ্যে আসছে।



















