ব্যুরো নিউজ, ২৫শে নভেম্বর ২০২৫ : অরুণাচল প্রদেশের এক ভারতীয় মহিলাকে চীনের সাংহাই বিমানবন্দরে ১৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটক রেখে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে চীনা অভিবাসন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। যুক্তরাজ্য (UK)-নিবাসী ওই মহিলার নাম প্রেমা ওয়াংজম থংডক। ২১ নভেম্বর জাপান যাওয়ার পথে সাংহাই বিমানবন্দরে ট্রানজিট চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে।
অভিযোগকারিণী ‘এক্স’ (X)-এ একাধিক পোস্টে জানিয়েছেন, চীনা কর্মকর্তারা তাঁর ভারতীয় পাসপোর্টকে ‘অবৈধ’ বলে দাবি করেন এবং বলেন, তাঁর জন্মস্থান অরুণাচল প্রদেশ চীনের অংশ।
১৮ ঘণ্টার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা
সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে থংডক তাঁর ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চীনা অভিবাসন কর্মকর্তারা তাঁকে সারিবদ্ধ লাইন থেকে আলাদা করে ডেকে নেন এবং বলেন: “অরুণাচল—নট ইন্ডিয়া, চায়না-চায়না। ইওর ভিসা ইজ নট অ্যাকসেপটেবল। ইওর পাসপোর্ট ইজ ইনভ্যালিড।”
তিনি প্রশ্ন করলে কর্মকর্তারা হাসাহাসি করেন এবং তাঁকে “চীনা পাসপোর্ট-এর জন্য আবেদন করতে” বলেন, কারণ তাঁর জন্মস্থান চীনের এলাকা। থংডক অভিযোগ করেন, চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনসের কর্মীরা এবং অভিবাসন কর্মকর্তারাও তাঁকে নিয়ে হাসি-তামাশা করেন, যা অত্যন্ত অপমানজনক।
Ram Mandir Dhwaja : ঐতিহাসিক মুহূর্ত: রামরাজ্যের ধর্ম ধ্বজ উত্তোলন
কূটনৈতিক স্তরে প্রতিবাদ ভারতের
এই ঘটনার পর থংডক ইমেল মারফত বিদেশ মন্ত্রক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO), অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী এবং বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরির কাছে অভিযোগ জানান।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর পরই ভারত কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। সোমবার বেইজিং এবং নয়া দিল্লী উভয় স্থানেই চীনা পক্ষের কাছে ভারত কড়া ‘ডিমার্শ’ (কূটনৈতিক প্রতিবাদপত্র) জারি করেছে। ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিসংবাদিত অংশ এবং সেখানকার বাসিন্দারা ভারতীয় পাসপোর্ট ধারণের সম্পূর্ণ অধিকারী। সাংহাইয়ে ভারতীয় কনস্যুলেট স্থানীয় স্তরে বিষয়টি উত্থাপন করে এবং ওই ভারতীয় নাগরিকের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করে।
অরুণাচল নিয়ে চীনের দাবি: “অর্থহীন ও অযৌক্তিক”
দীর্ঘদিন ধরেই চীন অরুণাচল প্রদেশকে ‘দক্ষিণ তিব্বত’-এর অংশ বলে দাবি করে আসছে। সম্প্রতি এই বছর চীন অরুণাচলের ২৭টি স্থানের নাম পরিবর্তন করেছিল, যা ভারত প্রত্যাখ্যান করে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল মে মাসে এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি যে চীন ভারতীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের স্থানগুলির নাম পরিবর্তন করার অর্থহীন ও অযৌক্তিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সৃজনশীল নামকরণ অস্বীকার করার অসাধ্য এই সত্যকে পরিবর্তন করতে পারবে না যে অরুণাচল প্রদেশ ছিল, আছে এবং চিরকাল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ থাকবে।”
Supreme Court : ভারতের ৫৩তম প্রধান বিচারপতি হিসাবে শপথ নিলেন বিচারপতি সূর্য কান্ত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মন্তব্য
এই প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে একটি ভিন্ন সুর শোনা গেছে। তাঁদের মতে, চীনের অভিবাসন কর্মকর্তাদের এই আচরণ কোনো বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে, যেখানে অরুণাচলের একজন ভারতীয় নাগরিককে শুধু তাঁর জন্মস্থানের ভিত্তিতে হেনস্থা করা হয়েছে। যদিও এই আন্তর্জাতিক মানের ‘বামপন্থা’ বোঝানোর নামে ভারতীয় নাগরিকের সম্মানহানি ঘটানোর বিষয়ে দেশের প্রাদেশিক বামপন্থীদের কোনো উদ্বেগ চোখে পড়ছে না।



















