ব্যুরো নিউজ, ২৫শে নভেম্বর ২০২৫ : প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং রবিবার নতুন দিল্লীতে সিন্ধি সমাজের একটি অনুষ্ঠানে যোগদান করে সিন্ধু অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্ক নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন। প্রাক্তন উপ-প্রধানমন্ত্রী লাল কৃষ্ণ আদভানির বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, সিন্ধু এখন সীমান্তের ওপারে থাকলেও, এর সভ্যতাগত যোগসূত্র ভারতের সঙ্গে চিরকাল অটুট থাকবে।
রাজনাথ সিং আদভানির উদ্ধৃতি উল্লেখ করে আরও বলেন, “আর জমির প্রসঙ্গে বলি, সীমানা বদল হতে পারে। কে জানে, কাল সিন্ধু আবার ভারতে ফিরেও আসতে পারে।”
সিন্ধু ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য বন্ধন
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে প্রবীণ বিজেপি নেতা এল কে আদভানির (যিনি দেশভাগের আগে করাচিতে জন্মেছিলেন) স্মৃতিচারণ করে বলেন যে তাঁর প্রজন্মের অনেক সিন্ধি হিন্দু আজও ১৯৪৭ সালের দেশভাগের মাধ্যমে সিন্ধুর বিচ্ছেদ মেনে নিতে পারেননি।
আদভানির উদ্ধৃতি: রাজনাথ সিং আদভানির একটি বইয়ের বক্তব্য তুলে ধরেন: “কেবল সিন্ধুতেই নয়, গোটা ভারতেই হিন্দুরা সিন্ধু নদকে (Indus River) পবিত্র মনে করতেন। সিন্ধুর বহু মুসলমানও বিশ্বাস করতেন যে সিন্ধু নদের জল মক্কার আব-এ-জমজম-এর চেয়ে কম পবিত্র নয়।”
ঐতিহাসিক যোগসূত্র: প্রতিরক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, রাজনৈতিক সীমানার জন্মেরও আগে থেকে এই সাংস্কৃতিক বন্ধন বিদ্যমান। তিনি বলেন, সিন্ধু প্রদেশ এখন পাকিস্তানে থাকলেও, “সভ্যতাগতভাবে সিন্ধু চিরকাল ভারতের অংশ থাকবে।”
জাতীয় চেতনায় সিন্ধু: তিনি জাতীয় সংগীতে সিন্ধুর উল্লেখের কথা স্মরণ করিয়ে দেন — “পঞ্জাব, সিন্ধু, গুজরাট, মরাঠা” — এবং বলেন এই সংযোগ আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে থাকবে।
এর আগে ২০১৭ সালে আদভানি নিজেও মন্তব্য করেছিলেন যে, “সিন্ধু ছাড়া ভারতকে অসম্পূর্ণ মনে হয়”।
Ram Mandir Dhwaja : ঐতিহাসিক মুহূর্ত: রামরাজ্যের ধর্ম ধ্বজ উত্তোলন
সিএএ-র পক্ষে সওয়াল করলেন রাজনাথ
অনুষ্ঠানে রাজনাথ সিং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) নিয়েও বিশদে আলোচনা করেন। তিনি এই আইনটিকে প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে আসা সেইসব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি সমর্থনের একটি পদক্ষেপ বলে ব্যাখ্যা করেন, যারা তীব্র হিংসা ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন যে, হিন্দু সম্প্রদায়গুলির উপর অত্যাচার, জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ এবং প্রিয়জন হারানোর পর যাঁরা ভারতে পালিয়ে এসেছিলেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলি তাঁদের প্রতি চরম অন্যায় করেছে।
রাজনাথ সিং বলেন, “অনেক প্রতিবেশী দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলি বছরের পর বছর ধরে ভুগছে। তাদের বাড়িঘর জ্বালানো হয়েছে, সন্তানদের হত্যা করা হয়েছে, মেয়েদের উপর নিষ্ঠুর অত্যাচার করা হয়েছে… কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই এই বেদনা উপলব্ধি করেছেন। সেই কারণেই আমরা নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল এনেছি।”
সিএএ, ২০১৯ আইনটি পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সেই সমস্ত শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্বের পথ খুলে দেয়, যাঁরা ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।



















