ব্যুরো নিউজ, ২৫শে নভেম্বর ২০২৫ : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং RSS প্রধান মোহন ভাগবত মঙ্গলবার এক বিশেষ অনুষ্ঠানে শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের শিখরে সুবিশাল গেরুয়া পতাকাটি উত্তোলন করেন।2 উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন।
শুভ মুহূর্ত: পতাকারোহন অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয় ভগবান শ্রীরাম ও দেবী সীতার বিবাহ পঞ্চমী তিথির ‘অভিজিৎ মুহূর্ত’-এর শুভক্ষণে।3 মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মন্দিরের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ হলো।
প্রধানমন্ত্রীর বার্তা: ধ্বজারোহণের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “আজ শতাব্দীর পুরনো যজ্ঞের পূর্ণাহুতি হলো, যার পবিত্র শিখা ৫০০ বছর ধরে জ্বলছিল… এই ধ্বজা কেবল একটি প্রতীক নয়; এটি ভারতীয় সভ্যতার পুনর্জাগরণের প্রতিনিধিত্ব করে।” তিনি আরও বলেন, এই দিনটি হলো “শতাব্দীর ক্ষতের নিরাময়”-এর দিন। তিনি ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য ‘অন্তরের রামকে জাগ্রত করার’ আহ্বান জানান।
ধর্ম ধ্বজের বিশেষত্ব ও প্রতীকী বার্তা
বিশেষভাবে তৈরি করা এই ‘ধর্ম ধ্বজ’টিকে মর্যাদা, ঐক্য এবং সভ্যতার ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবে মনে করা হচ্ছে। এটি রামরাজ্যের আদর্শের প্রতীক।
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
| আকার ও ওজন | ২২ ফুট লম্বা এবং ১১ ফুট চওড়া। এর ওজন প্রায় ২ থেকে ৩ কিলোগ্রাম। |
| পতাকাদণ্ড | মন্দিরের ১৬১ ফুট উঁচু শিখরের ওপর স্থাপিত ৪২ ফুট উঁচু দণ্ডের উপর এই ধ্বজ উত্তোলন করা হয়। |
| উপাদান | পতাকাটি প্যারাশ্যুটের কাপড় দিয়ে তৈরি এবং এটি প্রবল বাতাস ও প্রতিকূল আবহাওয়া সহ্য করার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। |
| প্রতীক | পতাকায় থাকা উজ্জ্বল সূর্য ভগবান রামের তেজ, বীরত্ব ও ঐশ্বরিক প্রভাবের প্রতীক। এছাড়া, ‘ওঁ’ চিহ্ন এবং পবিত্র কোভিদার (কাঞ্চন ফুল) বৃক্ষের ছবি খোদাই করা আছে, যা আধ্যাত্মিকতা ও সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার বার্তা দেয়। |
বিশিষ্টদের বক্তব্য: সংগ্রাম ও সংকল্প
আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত: ধ্বজারোহণের পর মোহন ভাগবত বলেন, রাম মন্দিরের জন্য যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, আজ তাঁদের আত্মা নিশ্চয়ই শান্তি পেয়েছে। তিনি বলেন, “হিন্দুরা ৫০০ বছরের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তাঁদের ‘সত্ত্বা’ (পবিত্রতা, গুণ) প্রমাণ করেছে… এই রাম মন্দির সত্য ও ধর্মের প্রতীক হিসেবে আজ দাঁড়িয়ে আছে।” তিনি সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার এবং বিশ্বকে ধর্ম, জ্ঞান ও সত্যের বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানান।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ: মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই দিনটিকে স্ব-গর্ব এবং জাতীয় গর্বের একটি মুহূর্ত বলে বর্ণনা করেন। তিনি এই পবিত্র দিনটিকে সেই সাধুসন্ত, যোদ্ধা এবং রামভক্তদের উৎসর্গ করেন যাঁরা এই আন্দোলনের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি বলেন, “এই গেরুয়া পতাকা ধর্ম, অখণ্ডতা, সত্য, ন্যায় এবং ‘রাষ্ট্র ধর্ম’-এর প্রতীক।”
Bihar : মা সীতার জন্মভূমির মহা পুনর্গঠনে বিহার সরকারের ৮৮২ কোটি টাকার অনুমোদন ।
মন্দিরের স্থাপত্যে বৈচিত্র্য
মন্দিরটি ঐতিহ্যবাহী উত্তর ভারতীয় নাগারা শৈলীতে নির্মিত হলেও, প্রায় ৮০০ মিটার লম্বা পরিক্রমা পথ বা পারকোটা দক্ষিণ ভারতীয় স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি করা হয়েছে। এটি ভারতের বিভিন্ন মন্দির ঐতিহ্যের সমন্বয়কে প্রতিফলিত করে।



















