ব্যুরো নিউজ, ২৫শে নভেম্বর ২০২৫ : মঙ্গলবার বিবাহ পঞ্চমী তিথি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর প্রধান মোহন ভাগবত অযোধ্যা রাম মন্দিরের ‘শিখর’-এ গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করলেন। এই পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানটি মন্দিরের নির্মাণকাজ সমাপ্তির প্রতীক এবং এক নতুন সাংস্কৃতিক ও জাতীয় ঐক্যের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সহ বহু বিশিষ্ট অতিথি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
পতাকা উত্তোলনের তাৎপর্যপূর্ণ দিন
মার্গশীর্ষ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। এই দিনটি শ্রী রামচন্দ্র ও দেবী সীতার ‘বিবাহ পঞ্চমী’র শুভ মুহূর্ত ‘অভিজিৎ মুহূর্ত’-এর সঙ্গে মিলে যায়, যা ঐশ্বরিক মিলনের প্রতীক।
দিনটির আধ্যাত্মিক গুরুত্ব আরও বাড়ে কারণ ২৫ নভেম্বর শিখ ধর্মের নবম গুরু, গুরু তেগ বাহাদুরজির আত্মবলিদান দিবস। জানা যায়, সপ্তদশ শতাব্দীতে তিনি ৪৮ ঘণ্টা অযোধ্যায় ধ্যান করেছিলেন।
Maa Sita : সীতা ও সীতামঢ়ী: যেখানে নীরবতা স্বয়ং সত্যের জন্ম দেয়
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ মন্দির দর্শন
রাম মন্দিরে পতাকাদণ্ড উত্তোলনের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি ‘সপ্তমন্দির’ পরিদর্শন করেন। এই মন্দির কমপ্লেক্সে মহর্ষি বশিষ্ঠ, মহর্ষি বিশ্বামিত্র, মহর্ষি অগস্ত্য, মহর্ষি বাল্মীকি, দেবী অহল্যা, নিষাদরাজ গুহ এবং মাতা শবরীকে উৎসর্গীকৃত মন্দিরগুলি রয়েছে। এরপর তিনি রাম দরবার গর্ভগৃহ এবং রামললা গর্ভগৃহে দর্শন ও পূজাও করেন।
গেরুয়া পতাকার প্রতীকী অর্থ
প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং মোহন ভাগবত মন্দিরের শিখরে যে দশ ফুট বাই বিশ ফুটের গেরুয়া পতাকাটি উত্তোলন করেন, সেটি বেশ কিছু প্রতীক বহন করে:
সূর্য প্রতীক: পতাকায় থাকা উজ্জ্বল সূর্যটি ভগবান শ্রীরামের তেজ ও বীরত্বের প্রতীক।
কোভিদার গাছ ও ওম: পবিত্র কোভিদার গাছ ও ‘ওম’ চিহ্নটি রামরাজ্যের আদর্শ এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতিনিধিত্ব করে।
এই উত্তোলনকে প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর ভাষণে জাতীয় ঐক্য এবং ভারতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের উদযাপন হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
Maa Sita : সীতা: জন্ম মৃত্তিকায়, চেতনা প্রকৃতিতে — এক সনাতন নারীশক্তির আখ্যান
স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব
রাম মন্দিরের স্থাপত্যে ঐতিহ্যবাহী উত্তর ভারতীয় নাগারা শৈলী ব্যবহার করা হয়েছে। তবে মন্দিরের চারপাশের প্রায় ৮০০ মিটার পরিক্রমা পথ বা ‘পারকোটা’-এ দক্ষিণ ভারতীয় স্থাপত্যের উপাদান দেখা যায়, যা দেশের বিভিন্ন মন্দির ঐতিহ্যের মিশ্রণকে তুলে ধরে।
মন্দির চত্বরটি দর্শনার্থীদের জন্য এক অসাধারণ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা দেয়:
প্রধান মন্দিরের দেওয়ালে: বাল্মীকি রামায়ণের ৮৭টি পর্ব সূক্ষ্মভাবে খোদাই করা হয়েছে।
ঘেরা দেওয়াল: এই দেওয়ালে ভারতীয় সংস্কৃতির ৭৯টি ব্রোঞ্জ-কাস্ট পর্ব প্রদর্শিত হয়েছে, যা শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা প্রদান করে।



















