ব্যুরো নিউজ, ২৫শে নভেম্বর ২০২৫ : আন্তর্জাতিক মহলের সামনে ভারতের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের মঞ্চে ঘটলো এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। গত শুক্রবার দুবাই আন্তর্জাতিক বিমান প্রদর্শনীতে (Dubai Air Show) প্রদর্শনীর সময় মুখ থুবড়ে পড়লো ভারতের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হালকা যুদ্ধবিমান (LCA) তেজস।
আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Al Maktoum International Airport)-এর উপর আকাশ-প্রদর্শনী চলছিলো। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিমানটি কিছু জটিল কৌশল প্রদর্শনের পরই দ্রুত গতিতে মাটিতে আছড়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশ ঢেকে দেয়। ভারতীয় সময় বিকেল প্রায় ৩:৪৯ মিনিট (দুবাই স্থানীয় সময় ২:১০ মিনিট)-এ ঘটনাটি ঘটে।
দু’বছরে দ্বিতীয় ধাক্কা
এই ঘটনা বিগত দু’বছরের মধ্যে তেজস-এর দ্বিতীয় নিশ্চিত দুর্ঘটনা। এর আগে, গত ২০২৪ সালের ১২ই মার্চ রাজস্থানের জয়সালমীরের কাছে অপারেশন চলাকালীন ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি তেজস মার্ক-১ (Mk-1) যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল। তবে সেই দুর্ঘটনায় পাইলট বিমান থেকে বেরিয়ে আসতে (eject) সক্ষম হওয়ায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন।
এই বিমানটির বিশেষত্ব হলো, এতে ‘মার্টিন-বেকার জিরো-জিরো ইজেকশন সিট’ রয়েছে, যা পাইলটকে শূন্য উচ্চতা এবং শূন্য গতিতেও নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে।
President Murmu : ভারতীয় রাষ্ট্রপতি ওড়ালেন রাফাল যুদ্ধবিমান , ধ্বংস করলেন শত্রুদের অপপ্রচার !
তেজস: ভারতের গর্বের প্রতীক
তেজস হলো একটি ৪.৫- প্রজন্মের বহুমুখী যুদ্ধবিমান, যা মূলত বিমান প্রতিরক্ষা, আক্রমণাত্মক বিমান সহায়তা এবং সম্মুখ সমরের জন্য তৈরি। সংস্কৃত শব্দ ‘তেজস’-এর অর্থ হলো উজ্জ্বলতা, দীপ্তি ও শক্তি। ভারতীয় বিমানবাহিনীর আধুনিকীকরণ এবং বিদেশি যুদ্ধবিমানের উপর নির্ভরতা কমানোর জন্য এই প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৬ সালে বিমানবাহিনীতে তেজস-এর প্রথম স্কোয়াড্রন (নম্বর ৪৫, ‘ফ্লাইং ড্যাগারস’) যুক্ত হয়।
দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ বিশ্লেষণ
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে সামরিক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে।
যান্ত্রিক ত্রুটি ও সফটওয়্যারের ভূমিকা: একদল বিশেষজ্ঞের মতে, বিমানটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি থাকতে পারে। যেহেতু তেজস একটি সম্পূর্ণরূপে ডিজিটাল ও সফটওয়্যার-নির্ভর বিমান, তাই যন্ত্রাংশের মান নিয়ে প্রশ্ন না উঠলেও, পরিচালনাকারী সফটওয়্যারের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। তাঁরা মনে করছেন, অত্যাধুনিক সফটওয়্যারটি হয়তো সাইবার আক্রমণের শিকার হয়ে বিকল হয়ে পড়েছিলো, যার ফলে বিমানচালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে: সফটওয়্যারটি কি সত্যিই বিকল করা হয়েছিলো, এবং যদি তাই হয়, তবে কারা এর পিছনে রয়েছে?
বিমানচালকের জ্ঞান হারানো: অন্য একটি দলের বক্তব্য, দুর্ঘটনাটি বিমানচালকের হঠাৎ জ্ঞান হারানোর ফলে ঘটেছে। যদিও উইং কমান্ডার পদের একজন প্রশিক্ষিত পাইলট এমন কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রদর্শন কৌশল বহুবার সম্পন্ন করেছেন, তবু উচ্চ গতিতে রক্তচাপের দ্রুত পরিবর্তনের ফলে এক মুহূর্তের জন্য চেতনা হারানো অসম্ভব নয়। কিন্তু কেন এই বিশেষ মুহূর্তে এমনটি ঘটলো, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, সিঙ্গাপুরে পূর্বের প্রদর্শনীর তুলনায় দুবাইয়ের কৌশলটিতে ত্রুটি ছিলো। দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী না হয়ে বিমানটি সরাসরি মাটিতে পতিত হয়।
বর্তমানে, এই জটিল দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ চলছে। মাতৃভূমির নাম উজ্জ্বল করার মুহূর্তে একজন বীর সেনানীকে এভাবে হারানো নিঃসন্দেহে অত্যন্ত দুঃখজনক।



















