ব্যুরো নিউজ, ২০শে নভেম্বর ২০২৫ : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (Special Intensive Revision – SIR) কাজ চলছে। এই আবহে দক্ষিণবঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ধরে নজিরবিহীন ‘বিপরীতমুখী বহির্গমন’ (Reverse Exodus) বা অবৈধ বাংলাদেশিদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
পিটিআই (PTI) সূত্রে বিএসএফ (BSF) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নথিপত্রহীন অভিবাসীরা উত্তর ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ এবং মালদা জেলার কাঁটাতারহীন এলাকাগুলো দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যেতে শুরু করেছে। গত দুই বছরের তুলনায় সম্প্রতি এই প্রত্যাবর্তনের চেষ্টার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।
পিটিআই-কে উদ্ধৃত করে এক ঊর্ধ্বতন বিএসএফ কর্মকর্তা বলেন, “আগে এমন ঘটনা দৈনন্দিন দুই অঙ্কের ঘরে কদাচিৎ পৌঁছাত। এখন প্রতিদিন সেই সংখ্যাটা ধারাবাহিকভাবে তিন অঙ্কের ঘরে রয়েছে।”
উত্তর ২৪ পরগনায় দীর্ঘ সারি
উত্তর ২৪ পরগনায় মোতায়েন সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর (BSF) জওয়ানরা রিপোর্ট করেছেন যে চেকপোস্টগুলিতে ছোট ব্যাগ ও ব্যক্তিগত সামগ্রী হাতে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। তাদের অনেকেই প্রকাশ্যে স্বীকার করছেন যে, কর্মসংস্থানের সন্ধানে তারা বহু বছর আগে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।
এই অপ্রত্যাশিত বৃদ্ধির কারণে বিএসএফ এবং রাজ্য পুলিশ উভয়ের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছে। কারণ থামানো প্রত্যেক ব্যক্তিকে বায়োমেট্রিক স্ক্রিনিং, বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ এবং ভারতীয় ও বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ উভয়ের কাছ থেকে ফৌজদারি পটভূমির যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
উক্ত কর্মকর্তা বলেন, “যখন কাউকে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হতে ধরা হয়, তখন আমরা শুধু এই অনুমান করে নিতে পারি না যে তারা দৈনন্দিন মজুরি-আয়কারী এবং বাড়ি ফিরছেন। তারা এখানে অপরাধ করে পালাচ্ছেন, অথবা তারা মৌলবাদী বা সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর সদস্যও হতে পারেন।”
WB SIR ECI : সুন্দরবনের এক গ্রাম ‘জাল নথির রাজধানী’ , পুবস্থলীতে বস্তাবন্দী আধার কার্ড পুকুরে উদ্ধার ! SIR-এর শুরুতেই তৃণমূল বনাম বিজেপির তীব্র তরজা ।
সন্দেহজনক ক্ষেত্রে রাজ্য পুলিশের হস্তক্ষেপ
ধৃত ব্যক্তিদের বায়োমেট্রিক তথ্য উপলব্ধ তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। তদন্তকারীরা কোনো ‘রেড ফ্ল্যাগ’ পেলে, পুলিশ তাতে হস্তক্ষেপ করে।
অন্য এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “যদি কোনো ফৌজদারি দিক সামনে আসে, তবে তাদের রাজ্য পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু যদি তারা কেবলই কাগজপত্রহীন মানুষ হন, যারা এখানে কাগজ ছাড়া বসবাস করতেন এবং এখন ফিরতে চান, তবে আমরা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করি এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করি। বিজিবি গ্রহণ করলে তাদের ফেরত পাঠানো হয়; অন্যথায় ভিন্ন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।”
উল্লেখ্য যে এইধরণের ‘ কাগজপত্রহীন বাংলাদেশিদের ‘ পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ভারতের নাগরিক হিসেবে রেখে দেওয়ার প্রবল চেষ্টা চালায় বামপন্থী দলগুলি এবং রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ‘ কাগজ দেখাবো না ‘ এর মাধ্যমে ! দেশের স্বার্থের ওপর নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ কে রাখার উদাহরণ দিয়েছে উক্ত রাজনৈতিক গোষ্ঠী গুলি ।



















