ব্যুরো নিউজ, ২০শে নভেম্বর ২০২৫ : সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জানাল যে বিলের উপর সম্মতি দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালের ক্ষেত্রে সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া ঠিক হবে না। শীর্ষ আদালত একইসঙ্গে মন্তব্য করে, রাজ্যপালরা অনির্দিষ্টকালের জন্য বিল ফেলে রাখতে পারেন না, তবে সময়সীমা নির্ধারণ করলে তা ক্ষমতার বিভাজনকে (Separation of Powers) লঙ্ঘন করবে।
পাঁচ বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত সংবিধান বেঞ্চ জোর দিয়ে জানাল যে রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালের পদক্ষেপ ‘বিচারযোগ্য নয়’ (not justiciable) এবং কেবলমাত্র যখন কোনো বিল আইনে পরিণত হয়, তখনই বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার (judicial review) মাধ্যমে তা খতিয়ে দেখা সম্ভব।
শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি বলেন যে রাষ্ট্রপতি রেফারেন্সের পক্ষে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলির দ্বারা উত্থাপিত যুক্তিগুলি সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে লিপিবদ্ধ করেছে।
বিলের ক্ষেত্রে ‘আর্টিকেল ১৪২’ প্রয়োগ নয়
সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ জানাল যে সংবিধানের ১৪২ নং ধারা (Article 142), যা শীর্ষ আদালতকে অসীম ক্ষমতা দেয়, তা বিলগুলিতে ‘স্বীকৃত সম্মতি’ (deemed assent) প্রদান করার জন্য ব্যবহার করা যাবে না।
আদালত জানায়, ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশে রাজ্যপালদের জন্য সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া সংবিধান প্রদত্ত নমনীয়তার পরিপন্থী। শীর্ষ আদালত মন্তব্য করে, “আমরা মনে করি না যে রাজ্য বিধানসভা দ্বারা পাস হওয়া বিলগুলির উপর রাজ্যপালদের অবাধ ক্ষমতা রয়েছে ফেলে রাখার।”
রাজ্যপালের হাতে তিনটি বিকল্প
সংবিধানের ১৪৩ (১) নং ধারা অনুসারে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু কর্তৃক চাওয়া সাংবিধানিক মতামতের (Presidential reference) উত্তর দেওয়ার সময় বেঞ্চটি জানাল যে রাজ্যপালদের হাতে সাধারণত তিনটি বিকল্প থাকে:
১. বিলে সম্মতি দেওয়া, অথবা
২. বিলটি পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠানো, অথবা
৩. বিলটি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরণ করা।
শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে জানায়, সংবিধানের ২০০ নং ধারা অনুসারে রাজ্যপালের ক্ষমতা প্রয়োগ বিচারযোগ্য নয়। এছাড়া আদালত ৮ এপ্রিল তামিলনাড়ুর ক্ষেত্রে শীর্ষ আদালতের দ্বারা প্রদত্ত ‘স্বীকৃত সম্মতি’ প্রদানকে বাতিল করে দেয়। আদালত জানায়, এই ধরনের সম্মতি দেওয়া কার্যত সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের কার্যভার গ্রহণ করে নেওয়ার সমতুল।



















