ব্যুরো নিউজ, ১৭ই নভেম্বর ২০২৫ : ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (SIR) চলার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। কলকাতার রাসবিহারী বিধানসভার ১৬০ নম্বর আসনের ১৯২ নম্বর পার্টের ব্লক লেভেল অফিসার (বিএলও) প্রমহাংশ প্রসাদের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় নিরপেক্ষতা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী রোহন কুণ্ডু জেলা নির্বাচন আধিকারিককে ইমেলের মাধ্যমে জানিয়েছেন, বিএলও-কে ওই পার্টের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ( তৃণমূল কংগ্রেস) একটি দোকানের ভিতরে বসে SIR সংক্রান্ত সরকারি কাজ করতে দেখা গেছে। অভিযোগকারীর দাবি, এটি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার নীতি এবং নির্দেশিকার সম্পূর্ণ বিরোধী। ঘটনার প্রমাণ হিসেবে ছবি ও ভিডিও জমা দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
কেরলে কাজের চাপে বিএলও-র আত্মহত্যা: দেশজুড়ে ধর্মঘট
অন্যদিকে, বামশাসিত রাজ্য কেরলের কান্নুর জেলার পায়ান্নুরের কাছে এট্টুকুডুক্কায় রবিবার এক বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) আনীশ জর্জ আত্মহত্যা করেছেন। তিনি পায়ান্নুর বিধানসভার ১৮ নম্বর বুথের বিএলও ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ: পরিবারের দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার (SIR) কাজের চাপের কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। কুনারু ইউপি স্কুলের পিয়ন আনীশ জর্জ কাজ নিয়ে চরম মানসিক চাপের কথা পরিবার ও বন্ধুদের জানিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
কমিশনের প্রতিক্রিয়া: রাজ্য নির্বাচন কমিশন জেলা কালেক্টরের কাছে এই বিষয়ে একটি রিপোর্ট চেয়েছে। যদিও কমিশন জানিয়েছে, কাজের চাপ নিয়ে তাদের কাছে আগে কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি।
রাজনৈতিক তরজা: এই ঘটনা নিয়ে সিপিএম কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছে। এম ভি জয়রাজন বলেছেন, একসঙ্গে স্থানীয় নির্বাচন এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ করায় কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস অভিযোগ করেছে যে, সিপিএম-এর হুমকির কারণেই আনীশ জর্জ আত্মহত্যা করেছেন এবং তারা এই ঘটনার তদন্ত দাবি করে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছে।
ধর্মঘট: আনীশ জর্জের আত্মহত্যার প্রতিবাদে রাজ্যের বিএলও-রা সোমবার কাজে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কমিশনের কঠোর বার্তা: ‘অযোগ্য ভোটার থাকলে জেল-জরিমানা’
বিএলওদের কাজের চাপ এবং বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন শনিবার জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে।
সহকারী নিয়োগ: কমিশন জানিয়েছে, যেসব বুথে ভোটারের সংখ্যা ১২০০-এর বেশি, সেখানে বিএলও-দের কাজ সহজ করতে সহকারী নিয়োগ করতে হবে।
দায়বদ্ধতা: উপ-নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতীসহ কমিশনের কর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, খসড়া তালিকায় একজনও অযোগ্য বা ভুয়ো ভোটারের উপস্থিতি থাকলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ওপরেই বর্তাবে। এর জন্য জেল বা জরিমানার মতো শাস্তিও হতে পারে।
ডিজিটাইজেশন: দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনকে একাধিক অভিযোগের কারণে সতর্ক করা হয়েছে। কমিশনকে জানানো হয়েছে যে, জমা পড়া প্রায় ৪০ লক্ষ ফর্ম ডিজিটাইজ করা হয়েছে। এই কাজে দ্রুততা আনতে মোবাইল অ্যাপের পাশাপাশি কম্পিউটার ব্যবহারের সুবিধাও চেয়েছে জেলাগুলো।
ছবি যাচাই: কমিশন জানিয়েছে, ভোটারের ছবি তোলা বাধ্যতামূলক। যে ভোটারের আত্মীয় ফর্ম জমা দেবেন, তাতে ছবি সাঁটানো থাকতে হবে এবং বিএলও-কে অবশ্যই তা যাচাই করে আপলোড করতে হবে।
প্যান-ইন্ডিয়া সন্ত্রাস ও ধর্মনিরপেক্ষতার রাজনীতি
অ-ভারতীয়দের নাগরিকত্ব এবং নির্বাচন কমিশনের নাগরিকতা যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্যে যে তীব্র সংঘাত চলছে, তার রাজনৈতিকীকরণের সুবিধা নিচ্ছে কিছু সুবিধাবাদী বাম এবং সমাজতান্ত্রিক দল। এই ধরনের চাপের কাছেই বহু সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএলও হয় কর্মে বা প্রাণ দিয়ে মাথা নত করছেন। বাম এবং তোষণবাদী সমাজতান্ত্রিক দলগুলির ভারতবর্ষের প্রতি দায়বদ্ধতার অনুমান পাচ্ছে নাগরিক সমাজ, তাদের রাজনীতির উদাহরণের মাধ্যমে।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদল ১৮ই নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে আসছেন। এই সফরে তারা দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, মালদহ এবং মুর্শিদাবাদেও যাবেন।



















