ব্যুরো নিউজ, ১৭ই নভেম্বর ২০২৫ : দিল্লি রেড ফোর্ট বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে এটি নিশ্চিত হলো যে, এই সন্ত্রাসের মূল ছকটি তুরস্কের আঙ্কারা থেকে নির্দেশিত হচ্ছিল।
হ্যান্ডলার ‘উকাশা’: পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত আত্মঘাতী বোমারু ডঃ উমর মোহাম্মদ সরাসরি ‘উকাশা’ নামে এক হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সন্দেহ, ‘উকাশা’ একটি কোড নাম, যা আরবী ভাষায় মাকড়সা (Spider) অর্থে ব্যবহৃত হয়। এই হ্যান্ডলারের অবস্থান আঙ্কারা-তে চিহ্নিত করা হয়েছে।
যোগাযোগের মাধ্যম: ডঃ উমর ও তার সহযোগী জঙ্গিরা ‘সেশন অ্যাপ’ (Session App) নামে একটি এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতেন, যা নজরদারি এড়িয়ে সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদান এবং হামলার সমন্বয় করতে সাহায্য করত।
কোড ভাষা: অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও ফুয়েল অয়েল ব্যবহার করে প্রস্তুত বিস্ফোরককে তারা ‘শিপমেন্ট’ এবং ‘প্যাকেজ’ কোড নামে উল্লেখ করত। এই কোডগুলি তাদের বাজেয়াপ্ত ফোন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
মস্তিষ্ক ধোলাইয়ের স্থান: তদন্তকারীরা মনে করছেন, ডঃ উমর এবং অন্য অভিযুক্তরা ২০২২ সালের মার্চ মাসে আঙ্কারা ভ্রমণ করেন, যেখানে তাদের উকাশার মাধ্যমে চরমপন্থায় দীক্ষিত করা হয়েছিল।
Delhi Car Blast : রেড ফোর্ট বিস্ফোরণে এইবার অমুসলিম মহিলা ডাক্তার আটক , ‘ সেকুলার ‘ সন্ত্রাসের প্রকাশ !
পাকিস্তান-বাংলাদেশ নেক্সাস: ভারতে বড় হামলার ছক
দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে এখন পাকিস্তান ও বাংলাদেশের গভীর আন্তঃসম্পর্ক বেরিয়ে এসেছে, যা ভারতের পূর্ব সীমান্তে নতুন এক সন্ত্রাসের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ঢাকায় বৈঠক: বিস্ফোরণের মাত্র কয়েক দিন আগে, লস্কর-ই-তৈয়বা (LeT)-এর শীর্ষ কম্যান্ডার সাইফউল্লাহ সাইফ (বা সাইফউল্লাহ খালিদ) বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বনানী এলাকার একটি বাড়িতে সন্ত্রাসবাদী ও বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন।
সরকারি যোগসূত্র: সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই বৈঠকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সচিব (স্বরাষ্ট্র বিষয়ক) ডঃ নাসিরুল গনি এবং ঢাকা উত্তর কর্পোরেশনের সিইও মোহাম্মদ আজাজ-এর মতো সরকারি আমলারা উপস্থিত ছিলেন। সাইফ এই বৈঠকে ভারতে বড় আকারের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং এই বিষয়ে পাকিস্তান-ভিত্তিক LeT-এর সমর্থন নিশ্চিত করেন।
মুর্শিদাবাদ রুট: বৈঠক শেষে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ-সহ একটি দল মুর্শিদাবাদের রাজসাহী রুট দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে বলে মনে করা হচ্ছে। তারা মুর্শিদাবাদের ইকতিয়ার নামে এক বাংলাদেশি নাগরিকের ‘সেফ হাউস’-এ উঠেছিল, যিনি বাংলাদেশের এক গোয়েন্দা বিভাগের অফিসারকে হত্যার অভিযোগে পলাতক।
এই ঘটনাপ্রবাহ, বিশেষত বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বার্ষিকীতে (৬ই ডিসেম্বর) হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে মিলিত হয়ে, প্রমাণ করে যে এই সন্ত্রাস কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং প্যান-ইসলামিক ষড়যন্ত্রের একটি অংশ, যা ভারতের সাংবিধানিক ও সামাজিক কাঠামোকে আঘাত করতে চায়।
ডিএনএ নিশ্চিতকরণ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
ডঃ উমরের পরিচয় নিশ্চিত: ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে যে, Hyundai i20 গাড়িটির চালক ছিলেন ডঃ উমর মোহাম্মদ। তাঁর মায়ের ডিএনএ-এর সঙ্গে গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া হাড় ও দাঁতের অংশের ডিএনএ শতভাগ মিলে গেছে।
মার্কো রুবিও-এর মন্তব্য: মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই তদন্তের উচ্চ প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ভারত সরকার এই তদন্ত পরিচালনার জন্য ‘খুবই পেশাদার’ এবং ‘তাদের আমাদের সাহায্যের প্রয়োজন নেই’। এই মন্তব্য ভারতের তদন্তকারী সংস্থাগুলির সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রমাণ।
সরকারের অবস্থান: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই বিস্ফোরণকে ‘সন্ত্রাসবাদী ঘটনা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং অপরাধী, সহযোগী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন।
তদন্তকারী সংস্থা NIA এবং দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল এখন সমস্ত আর্থিক যোগসূত্র ও যোগাযোগ প্রণালী খতিয়ে দেখছে।



















