Bihar elections NDA win

ব্যুরো নিউজ,  ১৭ই নভেম্বর ২০২৫ : বিহার বিধানসভা নির্বাচনে ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (NDA)-এর বিপুল জয়কে দল ও জনগণের পক্ষ হইতে এনডিএ সরকারের নীতির প্রতি সমর্থনের স্বীকৃতি বলিয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করিলেন। জোটের এই ভূমিধস জয়ের পর তিনি শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) প্রধান কার্যালয়ে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন।

বিহারের মোট ২৪৩টি আসনের মধ্যে নীতিশ কুমার-পরিচালিত এনডিএ প্রায় ২০২টি আসনে জয়লাভ করিয়া রাজ্যটিতে তাহাদিগের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ফলের পথে অগ্রসর হইল। অপরপক্ষে, তেজস্বী যাদব-পরিচালিত ইন্দিজোট শরিক মহাগঠবন্ধন (Grand Alliance) মাত্র ৩৫টি আসনে সীমাবদ্ধ রহিল, যাহা তাহাদিগের পক্ষে এক চরম পরাজয়।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর বার্তা: ‘কাট্টা সরকার’ আর ফিরিবে না

প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁহার বক্তৃতা শুরু করিলেন বিহারের জনগণের দেওয়া এই ঐতিহাসিক রায়কে স্বীকৃতি দিয়া। তিনি বিহারী স্থানীয় ভাষায় বলিলেন, “বিহারের জনগণ গর্দ উড়াইয়া দিয়াছেন”। মহাগঠবন্ধনের প্রতি কটাক্ষ করিয়া তিনি রাজ্যবাসীকে আশ্বাস দিলেন যে “কাট্টা সরকার আর ফিরিবে না” এবং ভবিষ্যতেও বিহারে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটিবে।

Bihar : বিহার নির্বাচন এক্সিট পোল: বিহারে এনডিএ-র বড় জয়ের আভাস, মহাজোটের প্রত্যাখ্যানে বিতর্ক।

মোদী-ভাষণের প্রধান উদ্ধৃতিসমূহ:

  • ‘কাট্টা সরকার’-এর প্রত্যাখান: “আমি যখন জঙ্গল রাজ ও কাট্টা সরকার লইয়া কথা বলিতাম, তখন আরজেডি কোনও আপত্তি উত্থাপন করে নাই। কিন্তু কংগ্রেস বিচলিত হইত। আজ আমি পুনরায় জানাইতে চাই যে বিহারে কাট্টা সরকার আর ফিরিবে না।”

  • নতুন ‘মাই ফর্মুলা’: “বিহারের কিছু দল তোষণ-ভিত্তিক ‘এম-ওয়াই ফর্মুলা’ (মুসলিম-যাদব) তৈরি করিয়াছিল। কিন্তু আজকের এই বিজয় এক নতুন ইতিবাচক ‘এম-ওয়াই ফর্মুলা’ উপহার দিল, এবং তাহা হইল মহিলা (Women) ও যুবক (Youth)।”

  • বাংলার পথে জয়: “বিহারের এই জয় বাংলায় বিজেপির জয়ের পথ প্রশস্ত করিল। আমি পশ্চিমবঙ্গবাসীকে আশ্বাস দিতেছি যে, আপনাদের সমর্থনে, বিজেপি সেই রাজ্যেও জঙ্গল রাজের অবসান ঘটাইবে।”

  • কংগ্রেসের সমালোচনা: তিনি কংগ্রেসকে ‘এমএমসি’ (মুসলিম লীগ মাওবাদী কংগ্রেস) বলিয়া অভিহিত করিলেন এবং ভবিষ্যদ্বাণী করিলেন যে এই নেতিবাচক রাজনীতির কারণে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে বড় ধরনের বিভাজন আসিতে পারে।

অমিত শাহ: “উন্নয়নের জন্য এই রায়”

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এনডিএ-র এই বিরাট সাফল্যের পরে বলিলেন যে এনডিএ সরকার জনগণের নিকট করা সকল প্রতিশ্রুতি পূরণ করিবে। তিনি এটিকে মহিলাদের সুরক্ষা, সুশাসন ও দরিদ্রদের কল্যাণের প্রতি জনগণের রায় বলিয়া অভিহিত করিলেন।

  • অনুপ্রবেশকারীদের জবাব: শাহ বলিলেন, “বিহারের জনগণের প্রতিটি ভোট মোদী সরকারের অনুপ্রবেশকারী-বিরোধী নীতিতে আস্থার প্রতীক। ভোটব্যাঙ্কের খাতিরে যাহারা অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করে, জনগণ তাহাদিগকে উপযুক্ত জবাব দিয়াছেন।” তিনি আরও দৃঢ়তার সহিত জানাইলেন যে ভোটার তালিকা সংশোধনের আবশ্যকতা রহিয়াছে।

  • অধিকতর উৎসর্গ: তিনি আশ্বাস দিলেন যে জনগণ যে আশা ও বিশ্বাস লইয়া এই রায় প্রদান করিয়াছেন, মোদীজির নেতৃত্বে এনডিএ সরকার তাহা আরও অধিক উৎসর্গের সহিত পূরণ করিবে।

ফলাফলের বিস্তারিত: বিজেপির উত্থান ও জেডি(ইউ)-এর উন্নতি

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, এনডিএ জোট ২০০-এর অধিক আসনে জয়ী হইয়াছে।

  • বিজেপি একক বৃহত্তম দল: বিজেপি এই প্রথম বিহারে একক বৃহত্তম দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করিল। দলটি ১০১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিয়া ৮৯টি আসনে জয়লাভ করিল এবং প্রায় ৯৫ শতাংশ স্ট্রাইক রেট দেখাইল।

  • জেডি(ইউ)-এর ফল: নীতিশ কুমারের জনতা দল-ইউনাইটেড (জেডি-ইউ) ২০১৫ সালের নির্বাচনের তুলনায় ৪৩টি আসন হইতে ৮৫টি আসনে উন্নতি করিল।

  • জোটসঙ্গী: লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস) ১৯টি, হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (ধর্মনিরপেক্ষ) ৫টি এবং রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা ৪টি আসন লাভ করিল।

মহাগঠবন্ধনের অবস্থা: আরজেডি মাত্র ২৫টি আসনে জয়ী হইল এবং কংগ্রেস কার্যত মুছিয়া গেল।

ফলাফলের বিশ্লেষণ: বিজেপির উত্থান ও এসআইআর-এর ভূমিকা

এই নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের ফলে বিজেপি ১০১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিয়া ৯০টি আসনে জয়লাভ করিল। এনডিএ-র সঙ্গী দল জেডি(ইউ) ৮৫টি আসন লাভ করিয়া বিহারে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করিল এবং আরজেডি-র হইতে আসন কাড়িয়া লইল। একক ম্যান্ডেটের জোরে এখন বিহারের এই দুই বৃহত্তম দল রাজ্য শাসন করিবে।

এই নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের ফলে বিজেপি ১০১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিয়া ৯০টি আসনে জয়লাভ করিল। এনডিএ-র সঙ্গী দল জেডি(ইউ) ৮৫টি আসন লাভ করিয়া বিহারে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করিল এবং আরজেডি-র হইতে আসন কাড়িয়া লইল। একক ম্যান্ডেটের জোরে এখন বিহারের এই দুই বৃহত্তম দল রাজ্য শাসন করিবে।

নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচনে এসআইআর (Special Intensive Revision ) চালাইয়াছিল, যাহার ফলে অবৈধ ও প্রক্সি ভোটিং-এর জন্য তৈরি ভোটার তালিকা সংশোধিত হইয়াছিল বলিয়া নিশ্চিত করা হইয়াছে। এই কারণে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরে আরজেডি প্রধান তেজস্বী যাদব কর্তৃক হুমকি দেওয়া সত্ত্বেও কোনও প্রকার ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনা ঘটে নাই।

Bihar : SIR পরবর্তী আবহে ঐতিহাসিক নজীর গড়ল বিহার : ১৯৫১ সালের পর সর্বাধিক ভোটদান, নারী ভোটারের রেকর্ড অংশগ্রহণ।

নারী শক্তি ও উন্নয়নের পক্ষে রায়

নির্বাচন কমিশন জানাইল যে এই নির্বাচনে ঐতিহাসিক সংখ্যক ভোট পড়িয়াছে এবং ১৯৫১ সালের পর ইহাই বৃহত্তম অংশগ্রহণ। উল্লেখযোগ্য যে, ৭১ শতাংশ মহিলা ভোট প্রদান করিয়াছেন, যাহা ৬৬ শতাংশ পুরুষ ভোটারের তুলনায় অধিক। ইসিআই কর্তৃক চালিত এসআইআর যে প্রকৃত নাগরিক অধিকারকে নিশ্চিত করিয়াছে, এই তথ্য তাহারই প্রমাণ।

এই রায় মহিলা সুরক্ষা, নিরাপত্তা, ক্ষমতায়ন এবং উন্নয়নের পক্ষে, যাহা নীতীশ কুমার-পরিচালিত সরকারের অগ্রাধিকার। বেতনভোগী সংবাদমাধ্যম দ্বারা প্রচারিত বিরোধী হাওয়া সত্ত্বেও ভূমিতে কোনও সরকার-বিরোধী ক্ষোভ ছিল না বলিয়া মনে করা হইতেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর