ঝুম্পা ব্যানার্জী , ০৭ নভেম্বর ২০২৫ : ‘ বন্দে মাতরম্ ৷ সুজলাং সুফলাং মলয়জশীতলাম্ শস্যশ্যামলাং মাতরম্ ! ‘
স্বাধীনতার আন্দোলনের শ্লোগান হিসেবে বন্দে মাতরম্-কে প্রথম ব্যবহার করা হয় ১৯০৫ সালের ০৭ অগাস্ট। এর ১৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। কালজয়ী এই রচনা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অসংখ্য স্বাধীনতা সংগ্রামী ও দেশ গঠনের কাজে নিয়োজিত কর্মীদের অনুপ্রাণিত করেছে। ভারতের জাতীয় পরিচয় ও সম্মিলিত চেতনার প্রতীক হয়ে উঠেছে এই গান।
‘বন্দে মাতরম গান নয়, একটা মন্ত্র..,’ প্রধানমন্ত্রী মোদিজী হাতেই শুরু হয়েছে এই বর্ষব্যাপী ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপন।
‘বন্দে মাতরম’ গান নয়, একটা মন্ত্র— মূল আবেগ ‘মা ভারতী’
প্রধানমন্ত্রী মোদিজী এই গানের মূল আবেগ সম্পর্কে বলেন, ‘‘বন্দে মাতরম গানের মূল আবেগ হল ভারত, মা ভারতী…ভারত বারবার অতীতের বহু অত্যাচার সহ্য করেও বিশেষ রত্ন হিসাবে উদ্ভাবিত হয়েছে এবং অমরত্বের দিকে এগিয়েছে৷’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘বন্দে মাতরম গানের মূল আবেগ হল ভারত, মা ভারতী…ভারত বারবার অতীতের বহু অত্যাচার সহ্য করেও বিশেষ রত্ন হিসাবে উদ্ভাবিত হয়েছে এবং অমরত্বের দিকে এগিয়েছে৷’’
বঙ্কিমচন্দ্রের কালজয়ী সৃষ্টি ও প্রথম প্রকাশ
বন্দে মাতরম্ প্রথমে একটি গান হিসেবে লেখা হয়েছিল। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই গান ১৮৭৫ সালের ০৭ নভেম্বর সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গদর্শনে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। পরবর্তীকালে, বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর চিরকালীন উপন্যাস আনন্দমঠ – এ এই গানটি অন্তর্ভুক্ত করেন। আনন্দমঠ প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে।
গানটির শুরুর অংশটিই তার নির্যাস বহন করে—
বন্দে মাতরম্ ৷ সুজলাং সুফলাং মলয়জশীতলাম্ শস্যশ্যামলাং মাতরম্ !
স্বাধীনতা আন্দোলনের শ্লোগান: ঐতিহাসিক ৭ই অগাস্ট ১৯০৫
এর অর্থ ‘মা তোমাকে বন্দনা করি’। বঙ্গভঙ্গের ঠিক আগে, স্বাধীনতা আন্দোলনে শ্লোগান হিসেবে বন্দে মাতরম্-কে প্রথম ব্যবহার করা হয় ১৯০৫ সালের ০৭ অগাস্ট। এই মন্ত্র গোটা দেশকে এক সুতোয় বেঁধে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শক্তি জুগিয়েছিল। আমরা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পশ্চিমবঙ্গের বঙ্গবাসী হিসেবে অনেক গর্বিত।
জাতীয় স্তোত্রের মর্যাদা ও রবীন্দ্রনাথের ভূমিকা
এই গানে প্রথম সুর সংযোজন করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৮৯৬ সালে কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে তিনিই প্রথম এই গানটি গেয়েছিলেন। স্বাধীনতার পরে, ১৯৫০ সালে গণপরিষদ এটিকে ভারতের জাতীয় স্তোত্র হিসেবে গ্রহণ করে। এটি দেশের সভ্যতা, রাজনীতি ও একতার প্রতীক বলা যেতে পারে।



















