IIM Joka rape case

ব্যুরো নিউজ ১৪ জুলাই ২০২৫ :  কলকাতা শহরের বুকে ফের এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ সামনে এল, যা আরজি কর এবং সাউথ ক্যালকাটা ল’ কলেজের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এবার দেশের অন্যতম স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (আইআইএম) জোকার বয়েজ হস্টেলে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগের বিবরণ

অভিযোগ অনুযায়ী, আইআইএম জোকার দ্বিতীয় বর্ষের এক ম্যানেজমেন্ট পড়ুয়ার বিরুদ্ধে এই জঘন্য অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, অভিযুক্ত ছাত্র একটি কাউন্সেলিং সেশনের নাম করে ওই তরুণীকে ক্যাম্পাসে ডেকেছিল। পরে তাঁকে জরুরি নথিপত্রের অজুহাতে বয়েজ হস্টেলে নিজের ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে পিৎজা ও কোল্ড ড্রিংক খেতে দেওয়া হয়। ওই খাবার খাওয়ার পরই তরুণী আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন এবং সেই সুযোগে অভিযুক্ত তাঁকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। নির্যাতিতা ছাত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি পুরো সময় আচ্ছন্ন অবস্থায় ছিলেন এবং যখন তাঁর জ্ঞান ফেরে, তখন তিনি নিজেকে বয়েজ হস্টেলে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপরই তিনি ঠাকুরপুকুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন, যদিও ঘটনাটি হরিদেবপুর থানা এলাকায় হওয়ায় তাঁকে হরিদেবপুর থানায় পাঠানো হয়।

Kasba College Gangrape ; তৃণমূল আশ্রিত ছাত্রনেতাদের অমানবিক বিকৃত মানসিকতা প্রকাশ পেল আদালতে

পুলিশি তৎপরতা ও গ্রেপ্তার

অভিযোগ পাওয়ার পর হরিদেবপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আইআইএম ক্যাম্পাসে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে এবং অভিযুক্ত ছাত্রকে তার হস্টেল রুম থেকে গ্রেপ্তার করে। সূত্রের খবর, ধৃত ছাত্র ম্যানেজমেন্টের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া। পুলিশ তার মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে এবং তার বয়ান রেকর্ড করেছে। আদালত অভিযুক্তকে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। লালবাজারের কর্তারা এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছেন, বিশেষত কসবা গণধর্ষণ কাণ্ডের কিছুদিনের মধ্যেই এমন ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অভিযুক্ত ছাত্রের সঙ্গে তরুণীর পরিচয় হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নির্যাতিতার বাবার ভিন্ন দাবি

এই ঘটনার পাশাপাশি নির্যাতিতা তরুণীর বাবার একটি দাবি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বলেছেন যে তাঁর মেয়ের সঙ্গে কোনো অত্যাচার বা খারাপ ব্যবহার করা হয়নি এবং তাঁর মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়নি। তিনি জানান, শুক্রবার রাতে একটি ফোন পেয়েছিলেন যেখানে বলা হয়েছিল তাঁর মেয়ে অটো থেকে পড়ে গিয়ে অসুস্থ হয়ে এসএসকেএম হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে ভর্তি আছে। পরে তিনি জানতে পারেন হরিদেবপুর থানার পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করেছে। মেয়ের সাথে কথা বলার পর তিনি নিশ্চিত হয়েছেন যে ধর্ষণের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রের সঙ্গে তাঁর মেয়ের কোনো সম্পর্ক নেই, তবে ঘুমিয়ে থাকার কারণে মেয়ের সঙ্গে এখনও বিস্তারিত কথা বলতে পারেননি।

বাস্তব মানসিকতায় সাধারণ অভিভাবকেরা মনে করেন যে এই ধরণের নিপীড়ন মেয়ের ভবিষ্যতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে এবং সমাজে প্রকাশ হওয়া থেকে বিরত থাকেন।

Kasba Gangrape : তদন্তের গতিপ্রকৃতি ঘিরে জনসাধারণে সংশয় থাকলেও , নির্যাতিতার বাবার আস্থা প্রশাসনে !

নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

এই ঘটনা আইআইএম কলকাতার মতো কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে পরিচালিত একটি প্রিমিয়াম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নির্যাতিতা ছাত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন যে তাঁকে বয়েজ হস্টেলের রেজিস্ট্রারে স্বাক্ষর করতে দেওয়া হয়নি, যা এই প্রিমিয়াম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা প্রোটোকল নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর