ব্যুরো নিউজ ৬ জুন : লখনউয়ে আড়াই বছরের এক দিব্যাঙ্গ শিশুকে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের পর অভিযুক্তের পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনাটি জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি কেবল একটি অপরাধ নয়, বরং সমাজে শিশু সুরক্ষা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
ঘটনার বিবরণ:
লখনউয়ের আলমবাগ এলাকায় এই পাশবিক ঘটনাটি ঘটে। আড়াই বছরের ওই দিব্যাঙ্গ শিশুটি তার বাবা-মায়ের সাথে আলমবাগ মেট্রো স্টেশনের নিচে ফুটপাতে ঘুমিয়ে ছিল। বৃহস্পতিবার (৫ জুন, ২০২৫) গভীর রাতে অভিযুক্ত দীপক বর্মা শিশুটিকে অপহরণ করে এবং নৃশংসভাবে ধর্ষণ করে। সকালে বাবা-মা ঘুম থেকে উঠে তাদের সন্তানকে পাশে দেখতে না পেয়ে দ্রুত টহলরত পুলিশকে খবর দেন।
বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি ভারত: ছাড়াল জাপানকে
পুলিশি তদন্ত ও অভিযুক্তের সনাক্তকরণ:
ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথে বিষয়টি গুরুতরভাবে নেয় পুলিশ। ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (DCP) সেন্ট্রাল আশিস শ্রীবাস্তবের নেতৃত্বে দ্রুত পাঁচটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ একটি স্কুটার সমেত অভিযুক্ত দীপক বর্মাকে চিহ্নিত করে। পুলিশ সূত্রে খবর, দীপক বর্মা রাজ্য ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছিল। সে আইশবাগ এলাকার বাসিন্দা এবং রেলওয়ে স্টেশনে জল সরবরাহের কাজ করত। পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, দীপক বর্মা একজন অভ্যাসগত অপরাধী ছিল এবং তার বিরুদ্ধে শহরের বিভিন্ন থানায় বেশ কয়েকটি ফৌজদারি মামলা ছিল।
অভিযুক্তের এনকাউন্টার:
শুক্রবার (৬ জুন, ২০২৫) ভোরে, পুলিশ দীপক বর্মাকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার দেবী খেদার কাছে আটকানোর চেষ্টা করে। পুলিশের দাবি, আত্মসমর্পণ করতে বলা হলে দীপক বর্মা পুলিশের উপর গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়, যার ফলে দীপক বর্মা গুরুতর আহত হয়। তাকে দ্রুত লোকবন্ধু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, কিন্তু চিকিৎসারত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার আগে পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের সম্পর্কে তথ্য প্রদানকারীর জন্য ১ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
নির্যাতিতা শিশুটির অবস্থা:
নির্যাতিতা শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে লোকবন্ধু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং পরে তাকে কিং জর্জ মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে (KGMU) রেফার করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং গোপনাঙ্গে গভীর ক্ষত রয়েছে। পাশবিক অত্যাচারের কারণে শিশুটির শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে, যা তার অবস্থাকে আরও আশঙ্কাজনক করে তুলেছে।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও শিশু সুরক্ষার অগ্রাধিকার:
এই ঘটনাটি সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ‘এভরি চাইল্ড ইজ স্পেশাল’ উদ্যোগের মূল বৈশিষ্ট্যই হলো শিশু সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ভুক্তভোগীকে দ্রুত বিচার পাইয়ে দিতে কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে। শিশু নির্যাতন একটি সামাজিক ব্যাধি এবং বিকৃত অপরাধ, যা আইনি প্রক্রিয়া দ্বারা বাধাগ্রস্ত না হয়ে কঠোর সামাজিক নির্দেশিকা মেনে নির্মূল করা প্রয়োজন। এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সমাজকে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং প্রতিটি শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।


















