ব্যুরো নিউজ, ১৫ই মার্চ ২০২৬ : অবশেষে বেজে গেল বিধানসভা নির্বাচনের দামামা। রবিবার নয়া দিল্লিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, অসম, কেরল ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করল। এই ঘোষণার সাথেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে আদর্শ আচরণবিধি বা Model Code of Conduct কার্যকর হয়ে গেল।
নির্বাচন ও গণনার দিনক্ষণ
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, অসম, কেরল ও পুদুচেরিতে ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী ৯ এপ্রিল। এই তিনটি রাজ্যে এক দফাতেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে। অন্যদিকে, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন হবে ২৩ এপ্রিল। তামিলনাড়ুতে এক দফায় ভোট গ্রহণ করা হলেও, পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে চলবে দুই দফায় নির্বাচন। বাংলার জন্য দুই দফায় ভোট গ্রহণের তারিখ স্থির করা হয়েছে ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনের ভোট গণনা বা ফল ঘোষণা করা হবে আগামী ৪ মে।
আসামে এক দফায় ভোট
অসম বিধানসভার মেয়াদ আগামী ২০ মে শেষ হতে চলেছে। তার আগেই রাজ্য জুড়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে আগামী ৯ এপ্রিল নির্বাচন হবে। গোটা রাজ্য জুড়ে এক দফাতেই ভোট নেওয়া হবে। এরপর ৪ মে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
তামিলনাড়ুতে এক দফায় নির্বাচন
তামিলনাড়ু বিধানসভার বর্তমান মেয়াদ ১০ মে শেষ হবে। এই নির্বাচনের জন্য এক দফায় ২৩ এপ্রিল ভোট গ্রহণ করা হবে। গণনার দিন অন্যান্য রাজ্যের সাথেই ৪ মে নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে এই রাজ্যে রাজনৈতিক তাপ উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে।
পশ্চিমবঙ্গে ২ দফায় ভোট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৭ মে। এই নির্বাচনের গুরুত্ব বিবেচনা করে দুই দফায় ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম দফার ভোট হবে ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট নেওয়া হবে ২৯ এপ্রিল। কমিশন জানিয়েছে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যাপক মোতায়েন নিশ্চিত করা হবে। এই নির্বাচনের ফলাফল ৪ মে জানা যাবে।
কেরল ও পুদুচেরিতে এক দফায় ভোট
কেরল বিধানসভার মেয়াদ ২৩ মে এবং পুদুচেরি বিধানসভার মেয়াদ ১৫ জুন শেষ হচ্ছে। দুই জায়গাতেই এক দফায় নির্বাচন করা হবে এবং নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়েছে ৯ এপ্রিল। ফলাফল ঘোষণা হবে ৪ মে।
কমিশনের প্রস্তুতি ও তথ্য
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, ৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে মোট ১৭.৪ কোটি ভোটার ভোটদানের যোগ্য। ভোটারদের সুবিধার্থে ২.১৯ লক্ষ পোলিং স্টেশন তৈরি করা হবে। নির্বাচনের সামগ্রিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও অবাধ করার লক্ষ্যে ২৫ লক্ষেরও বেশি নির্বাচন কর্মী ও আধিকারিক নিযুক্ত থাকবেন। বিভিন্ন রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকার তথ্যও সাংবাদিক বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। কমিশন নির্বাচনগুলিকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

















