ব্যুরো নিউজ,১ এপ্রিল : শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পথকুকুর নিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে শিক্ষা দফতর। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে কিভাবে রাস্তার কুকুর থেকে সচেতন থাকতে হবে, সেই বিষয়ে এবার শিক্ষকদেরই দায়িত্ব নিতে হবে। পথকুকুর নিয়ে পড়ুয়াদের সতর্ক করতে স্কুলের শিক্ষক ও কর্মীদের সচেতনতা মূলক প্রচার চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্কুল চত্বরে, বিশেষ করে যেখানে মিড-ডে মিলের খাবার রান্না ও সংরক্ষণ করা হয়, সেখানে কুকুর ঢুকতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। অনেক স্কুলে পাঁচিল না থাকায় বা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় কুকুর ঘুরে বেড়ায়, যা শিক্ষার্থীদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তাই স্কুল শুরুর আগে ও প্রার্থনার পরে শিক্ষার্থীদের রাস্তার কুকুরের বিষয়ে সতর্ক করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের শেখানো হবে:
- রাস্তার কুকুর দেখলে অযথা বিরক্ত না করা
- কুকুরের সামনে দিয়ে দৌড় না দেওয়া
- বড় দল কুকুর দেখলে সাবধানে পাশ কাটিয়ে যাওয়া
- কোনো কুকুর খেপে গেলে ভয় না পেয়ে শান্ত থাকা
- প্রয়োজনে পথচারীদের সাহায্য নেওয়া
- বেশি কুকুর থাকলে স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো
Investment: সোনা ও রুপোতে বিনিয়োগ আর্থিক লাভের ক্ষেত্রে সুবর্ণ সুযোগ, কিভাবে এই লাভ ওঠাবেন জেনে নিন
অনেক স্কুলে পাঁচিল না থাকার ফলে কুকুর, গরু ও অন্যান্য প্রাণী অনায়াসে ভেতরে ঢুকে পড়ে। ফলে পড়ুয়ারা ভয় পায় এবং ক্লাসের পরিবেশ নষ্ট হয়। এই বিষয়ে শিক্ষকদের নজর রাখতে বলা হয়েছে।
শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ
এই নির্দেশিকা নিয়ে শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা অনিমেষ হালদার বলেন, “বহু প্রাথমিক স্কুলে পাঁচিল নেই, দারোয়ান নেই। নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করে শিক্ষকদেরই সব দায়িত্ব চাপানো হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের কাজ শিক্ষা দেওয়া, কিন্তু এখন তাদের দিয়ে অন্যান্য কাজ করানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছিল, শিক্ষকদের শিক্ষা ছাড়া অন্য কাজে নিযুক্ত করা যাবে না। অথচ এই ধরনের দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
Today petrol price: আজ পেট্রল ও ডিজেলের দাম কোন রাজ্যে কত থাকছে এক নজরে জেনে নিন
একটি সূত্র জানাচ্ছে, কেন্দ্র সরকার থেকে রাজ্যগুলিকে এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে, যা রাজ্য শিক্ষা দফতর সমগ্র শিক্ষা মিশনের মাধ্যমে স্কুলগুলিতে পাঠিয়েছে। শিক্ষকদের মতে, পড়ুয়াদের নিরাপত্তা অবশ্যই জরুরি, তবে তার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত অবকাঠামো। শুধু শিক্ষকদের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তাই কুকুর ঠেকাতে স্কুলে পাঁচিল নির্মাণ ও দারোয়ান নিয়োগের দাবিও উঠছে।