ব্যুরো নিউজ,২৭ মার্চ : ২৬ মার্চ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস—একটি গর্বের দিন, এক ইতিহাস গড়ার দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধ শুরু করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। যুদ্ধের মূল প্রেরণা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যিনি সে সময় পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন। তাঁর নেতৃত্ব ও আদর্শেই কোটি বাঙালি রণক্ষেত্রে নেমে আসে। দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধ শেষে আসে স্বাধীনতা, গড়ে ওঠে বাংলাদেশ।কিন্তু ২০২৫ সালের স্বাধীনতা দিবসে দৃশ্যপট ছিল কিছুটা ভিন্ন। সরকারি অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করা হয়নি। রাষ্ট্রপতির বাণী ও প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে কোথাও শেখ মুজিবের নাম বা তাঁর স্বাধীনতা ঘোষণার প্রসঙ্গ ছিল না। এমনকি বিদেশি দূতাবাসগুলিতেও শেখ মুজিবের ছবি, ভাষ্কর্য, প্রতিকৃতি সরিয়ে রাখা হয় বা ঢেকে দেওয়া হ্কাটকোলকাতা উপ-দূতাবাসসহ বিশ্বের বিভিন্ন কূটনৈতিক ভবনে বঙ্গবন্ধুর ছবির পরিবর্তে কেবল রাষ্ট্রপতি ও উপদেষ্টার বাণী পাঠ করা হয়। আলোচনা সভায়ও বঙ্গবন্ধুর অবদান নিয়ে চুপ থেকেছেন বিদেশি অতিথিরাও। এমনকি পাকিস্তানের নামও এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
লোহার কন্টেনারে আশ্রয়, তবুও সরকারি সাহায্য নেই! হাওড়ার বেলগাছিয়ার অসহায় পরিবারগুলোর করুণ চিত্র !
এই দিনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসকে একটি শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান। সেখানে তিনি লেখেন, “এই দিনটি আমাদের দুই দেশের ইতিহাস ও ত্যাগের দলিল। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আলো।” ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানান।কূটনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে মোদী ১৯৭১ সালে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছেন। এতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
নীল শাদা ঝড়ে উড়ে গেলো ব্রাজিল! মেসিকে ছাড়াও দুর্দান্ত ছন্দে নীল-সাদা বাহিনী।
স্বাধীনতা দিবসে একদল তরুণ সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে ‘ছাত্র জনতা’ নামধারী ইউনূস সমর্থকরা তাঁদের বাধা দেয়। পরে পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায়, এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তাঁকেও হুমকি দেওয়া হয়।স্বাধীনতা দিবসে শেখ মুজিবকে বাদ দিয়ে, ভারতের ভূমিকাকে সামনে রেখে এবং নতুন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাব্য ইঙ্গিত—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি ও কূটনীতিতে এক অস্থিরতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দেশের জনগণের মধ্যে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, “স্বাধীনতা দিবসে যদি মুজিব না থাকেন, তাহলে ইতিহাসটাই বা কোথায় দাঁড়ায়?”