ব্যুরো নিউজ ০৮ জুলাই ২০২৫ : একদিনের টানা বৃষ্টি এবং নিম্নচাপের জেরে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC) জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলস্বরূপ হাওড়া ও হুগলির একাধিক এলাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা রাজ্য প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
ডিভিসি-র জল ছাড়ার পরিমাণ বৃদ্ধি
ডিভিসি সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে ইতিমধ্যেই প্রায় ৪৬ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। এর পাশাপাশি মাইথন ও পাঞ্চেত বাঁধ থেকেও ৪০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ জল ছাড়ার ফলে দক্ষিণবঙ্গের নীচু এলাকা এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলে প্লাবনের সম্ভাবনা জোরদার হয়েছে। বাঁধ কর্তৃপক্ষ বাঁধের জলস্তর এবং পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত জল ছাড়তে বদ্ধপরিকর ।
Kolkata : ভারী বর্ষণে কলকাতা জল্মগ্ন ! ভেনিসের মতন হয়ে উঠল মহানগর !
দক্ষিণবঙ্গে অব্যাহত ভারী বৃষ্টি
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপ এবং মৌসুমী অক্ষরেখার যুগলবন্দিতে আরও কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি চলবে। মঙ্গলবার রাত থেকে বৃষ্টির দাপটে গোটা দক্ষিণবঙ্গ ভিজছে। দুর্গাপুর ও তার আশপাশে মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে ব্যারেজে জলস্তর দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় ডিভিসি কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ৬ হাজার কিউসেক জল ছাড়তে শুরু করেছে।
হাওড়া ও হুগলিতে ফের বন্যার আশঙ্কা
ডিভিসি-র জল ছাড়ার ফলে হাওড়া ও হুগলি জেলায় এর আগেও বহু এলাকা জলে ডুবে গিয়েছিল, যার কারণে বহু ঘরবাড়ি এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। এবারও একই রকম ভয়াবহ চিত্রের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই দুই জেলার নিচু এলাকাগুলিতে ইতোমধ্যেই জল জমতে শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
Weather update : দিনভর বৃষ্টি – আবহাওয়ার সতর্কবার্তা
রাজ্য প্রশাসনের উদ্বেগ
ডিভিসি-র অতিরিক্ত জলছাড়া এবং টানা বৃষ্টির ফলে সামনের দিনগুলিতে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা নিয়ে রাজ্য প্রশাসনও গভীর উদ্বেগে রয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা স্তরে কড়া নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কাজ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্বল নিকাশি ব্যবস্থার কারণে বাড়ছে ঝুঁকি
গ্রাম বাংলার নদীর ধারে অবস্থিত বিভিন্ন বসতি কেন্দ্র, বিশেষ করে গ্রাম এবং শহরতলিগুলিতে পর্যাপ্ত নিকাশি প্রণালী না থাকার কারণে বন্যা এবং প্লাবনের আশঙ্কা আরও বেড়ে উঠেছে। এই দুর্বল পরিকাঠামো বর্ষার জল দ্রুত নামাতে না পারায় জল জমার সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে।


















