ব্যুরো নিউজ,১ এপ্রিল: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম একসময় ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। ভারতের অংশ দখল করে ‘অখণ্ড বাংলা’ তৈরির ডাক দিয়েছিলেন তিনি। এই বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে যখন তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, ঠিক তখনই তার বাবার ওপর হামলার ঘটনা সামনে এল। ইদের আগে লক্ষ্মীপুরের নারায়ণপুর গ্রামে ঘটে এই হামলা, যা নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
হামলার পেছনে রাজনৈতিক সংঘর্ষ?
ঘটনাটি ঘটে ৩০ মার্চ, লক্ষ্মীপুরের ইছাপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুরে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি ও ছাত্রদলের কর্মীরা উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মেহেদি মঞ্জুর বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে আহত হন মাহফুজ আলমের বাবা বাচ্চু মোল্লা। জানা যায়, বাচ্চু মোল্লার হাতে গুরুতর চোট লাগে। তবে আশ্চর্যের বিষয়, এই ঘটনার পরও থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।এদিকে, এই হামলার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে মিছিল করে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, মাহফুজের বিতর্কিত মন্তব্য এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তাপের জেরেই এই হামলা।
এর আগেও মাহফুজ আলম বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মুর্শিদাবাদ, জলপাইগুড়ি, সেভেন সিস্টার্সের রাজ্যগুলিকে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেন। এমনকি, তিনি দাবি করেন, এই নতুন ভূগোল তৈরি না হলে বাংলাদেশ ‘পূর্ণ স্বাধীনতা’ পাবে না। এই বক্তব্য ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে।তবে বিতর্ক বাড়তে থাকলে মাহফুজ আলম পরে তাঁর সেই পোস্ট মুছে দেন। তবে তাঁর ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ নিয়ে মন্তব্য আজও অনেকে ভুলতে পারেননি। বিশেষত, যখন তাঁর পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটল, তখন অনেকেই একে প্রতিশোধমূলক আক্রমণ হিসেবে দেখছেন।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। মাহফুজের মন্তব্যের জেরে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তারই কি প্রতিফলন এই হামলা? নাকি এটি শুধুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলা? প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।