কামদুনি

ব্যুরো নিউজ, ৩ জানুয়ারি: কামদুনি কাণ্ডে জামিনে মুক্ত অভিযুক্তদের এখনি গ্রেফতার নয়: সুপ্রিম কোর্ট

২০১৩ সালের ৭ই জুন, ডিরোজিও কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ২০ বছর বয়সি শিপ্রা ঘোষকে অপহরণ, গনধর্ষণ ও খুন করা হয়, রাজ্যের প্রধান শহর ও রাজধানী কলকাতা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার ও উঃ ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে কামদুনি গ্রামে। তাকে অপহরণ করে একটি কারখানার ভিতরে নিয়ে যায় দুষ্কৃতিরা। সেখানে তাকে ৮ জনে মিলে ধর্ষণ করে। তাকে ধর্ষণ করার পর অপরাধীরা তার পা নাভি পর্যন্ত ছিঁড়ে ফেলে ও গলা কেটে তার মৃতদেহ পাশের মাঠে ফেলে দেয়।

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে এই মামলায় অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। নৃশংস ওই ঘটনার বিচারে তিন দোষী সাব্যস্ত সইফুল আলি, আনসার আলি, আমিন আলিকে ফাঁসির সাজা দেয় নিম্ন আদালত। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় ইমানুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম ও ভোলানাথ নস্করকে। সাইফুল ও আনসারকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়ে বাকিদের সাজা মকুব করে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ। সুপ্রিম কোর্ট সেই ‘মুক্তি’র নির্দেশে শর্ত আরোপ করে। জানায়, কামদুনি ধর্ষণ মামলা থেকে মুক্তি পাওয়া ৪ জনকে কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশের পর কামদুনি মামলার জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হয় সর্বোচ্চ আদালতে। এদিন দোষীদের ফের গ্রেফতারির নির্দেশ জারি করতে রাজি হয়নি বিচারপতি গভইয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। তবে কামদুনি মামলায় সব পক্ষকে নোটিশ ইস্যু করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

জমি বিবাদ | মহিলার বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ স্থানীয় কাউন্সিলরের স্বামীর বিরুদ্ধে

কামদুনি মামলায় চলতি বছর রায় দেয় কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, নিম্ন আদালতে ফাঁসির সাজা পাওয়া সইফুল আলি এবং আনসার আলির সাজা কমানো হচ্ছে এবং তাঁদের আমৃত্যু কারাদণ্ড ঘোষণা হচ্ছে। অন্যদিকে, নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল ইমানুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম ও ভোলানাথ নস্করকে। তাদেরও খালাস করে দেওয়া হয়। তাঁরা দশ বছর জেল খেটে নেওয়ায় খালাস করে দেওয়া হয় বলে জানানো হয়।

 

এই ঘটনায় নির্যাতিতার পরিবার ও কামদুনির প্রতিবাদীরা রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করে। মামলার জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য। এদিন মামলাটির প্রথম শুনানি হয়। ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পৌঁছেছেন নির্যাতিতার পরিবার, শিক্ষক প্রদীপ মুখোপাধ্যায় ও কামদুনি আন্দোলনের অন্যতম মুখ মৌসুমী কয়াল। মৌসুমী এদিন রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আজ এখানে রাজ্যের কোনও উকিল উপস্থিত ছিলেন না। রাজ্য পুলিশ বা CID যে তদন্ত করেছে তাতে ভুল থাকে বলে মনে করছি।’ এদিন তাঁরা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে কথা বলার জন্য আবেদন জানিয়ে চিঠি দিতে চলেছেন”।

কামদুনির নির্যাতিতার জন্য সুবিচার চেয়ে যাঁরা লড়াই করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন প্রদীপ। তিনি জানান, নিম্ন আদালত যে রায় দিয়েছে, তা যাতে বহাল থাকে, সে কারণে সু্প্রিম কোর্টের দ্বারস্থ তাঁরা। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাইছেন তাঁরা। তাঁর কথায়, “আমরা হাই কোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নই। বঙ্গবাসীরও একই মত। বিচারব্যবস্থাকে সম্মান জানিয়ে বলছি, রাজ্য প্রশাসন বা পুলিশি ব্যবস্থা ও সিআইডি যে তদন্ত করেছে, আমাদের মনে হচ্ছে তার মধ্যে বিস্তর ভুলভ্রান্তি রয়েছে”। ইভিএম নিউজ

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর