সন্দেশখালি
ব্যুরো নিউজ, ৮ জানুয়ারি: ঘরে বেআইনি অস্ত্র, বিপুল অর্থ! তথ্য লোকাতে ৫ টি মোবাইল নষ্ট করেছেন শাহজাহান! 

 
শুক্রবারের পর আজ সোমবার। ২ দিন পেরিয়ে গেলেও বেপাত্তা সন্দেশখালির ‘সম্রাট’। 
‘শওকত-শাহজাহানদের থেকে সাবধান থাকুন, সজাগ-সতর্ক হোন’ | সংখ্যালঘুদের বার্তা নওশাদের

ইডি আধিকারিকদের মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া, সিআরপিএফ জওয়ানদের তাড়া করা। এমনকি সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের মারধোর ও তাদের ক্যেমেরা, গাড়িতে ভাঙচুর চালানো। এই সকল অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। কিন্তু যাঁকে ঘিরে এত্ত ঘটনা, সেই শেখ শাহজাহানের নাগাল পাওয়া যায়নি এখনও পর্যন্ত। আর শেখ শাহজাহানকে নিয়েই একের পর এক ‘বোমা’ ফাটাচ্ছেন বিরোধী থেকে শাসক শিবির।

#শেখ শাহজাহান

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি করেছিলেন, সন্দেশখালিতেই আছেন শাহজাহান। প্রধান হাজি সিদ্দিক মোল্লার বাড়িতে গা ঢাকা দিয়েছেন তিনি। তিনি এও বলেছেন, বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন তবে লুক আউট নোটিস জারি হওয়ায় পালাতে পারেননি। কেন্দ্রীয় এজেন্সি বাংলাদেশ সরকারকে সতর্ক করেছে। তাই পালাতে পারেনি।

এরপর পঞ্চায়েত প্রধান হাজি সিদ্দিকি মোল্লা শুভেন্দু অধিকারীর করা মন্তব্যের পাল্টা তোপ দেগে বলেন,  “শুভেন্দু অধিকারীর জানা উচিৎ শেখ শাহজাহান পালানোর ছেলে নয়। শাহজাহান তো এলাকাতেই রয়েছেন। বিন্দাস ঘুরছেন। সবার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। শুধু তাই নয়, চ্যালেঞ্জের সঙ্গেই তিনি বলেছেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই শেখ শাহজাহান নাকি সকলের মুখোমুখি হবেন।

এরই মধ্যে ইডি সূত্রে খবর, রেশন দুর্নীতিতে মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক গ্রেফতার হওয়ার খবর মিলতেই পাঁচ-পাঁচটি মোবাইল ভেঙে নষ্ট করে দিয়েছিলেন শাহজাহান! মন্ত্রীর সূত্র ধরে তদন্ত যে তার দিকেও ঘুরবে সেই আশঙ্কা করেছিলেন শাহজাহান। এর আগে যেমন ব্যবসায়ী বাকিবুরের সূত্র ধরে নাম এসেছিল বালুর। ঠিক তেমনি বালুর সূত্র ধরেই তার নামও যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা পেতে পারে সেই আঁচ থেকেই দু’জনের যোগাযোগের প্রমাণ লোপাট করতে মোবাইল ফোনগুলি নষ্ট করে দেন শেখ শাহজাহান। এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

এর আগেও তথ্যপ্রমাণ লোপাটের জন্য নিজেদের মোবাইল নষ্ট করেছেন অনেকেই। এমনকি তথ্য লোকাতে সিবিআই অফিসারদের সামনেই নিজের মোবাইল পুকুরে ছুড়ে ফেলেন মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। যদিও পরে তা উদ্ধার করা হয়। এ ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনই শাহজাহান নিজের মোবাইল নষ্ট করেছিলেন বলে ধারণা অদন্তকারী সংস্থার।

তদন্তকারীরা মনে করছে, যে স্থানে তার ডেরা, তা থেকে ১০-১৫ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশ সীমান্ত। ফলে খুব সহজেই তোলার পাশাপাশি দুর্নীতির একটা বড় অংশ বাংলাদেশে পাচার করে দেওয়া হতো। এর পাশাপাশি গরু পাচার, সোনা পাচার ইত্যাদি সীমান্ত এলাকায় চলতোই।

ইডি সূত্রে খবর। তাদের কাছে খবর ছিল, পাচার করার আগে প্রায় ৫০-৬০ কোটি টাকা শাহজাহানের বাড়িতে রয়েছে। সেই কারণেই শুক্রবার সকালে সন্দেশখালির সরবেড়িয়ায় শাহজাহানের বাড়িতে হানা দিয়েছিল তারা। ইডি মনে করছে, সে দিন শাহজাহানের বাড়িতে ঢুকতে পারলে, বিপুল নগদ টাকার পাশাপাশি বেআইনি অস্ত্র পাওয়ারও সম্ভাবনা ছিল। তাই তদন্তকারী সংস্থাকে আটকাতে এত মরিয়া ছিলেন শাহজাহান। ইডি কর্তারা মনে করছেন, আগে থেকে নোটিস দিয়ে গেলে লাভ হত না। ততক্ষণে সেই টাকা, অস্ত্র ও নথিপত্র অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হতো বলেই মনে করছেন তাঁরা। ইভিএম নিউজ

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর